১৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নাটকীয় লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করল ইরান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ জি’র ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে দারুণ এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলে ড্র হয়ে, যেখানে দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। এর ফলে গ্রুপ 'জি'-এর দুইটি ম্যাচই ড্র হলো, এতে এই গ্রুপের চার দলই সমান ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে।

এদিন লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই ফুটবলের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল রাজনীতি। শুরু হয় প্রতিবাদও। অন্যদিকে গ্যালারিতে উড়ছিল নানা পতাকা, জাতীয় সংগীতে শোনা গেছে দুয়ো ও সমর্থনের মিশ্র সুর। সেই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই মাঠে রোমাঞ্চ ছড়াল ইরান ও নিউজিল্যান্ড। দুইবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি ইরান। এলিজাহ জাস্টের জোড়া গোলে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেব্বির গোলে দুবারই ম্যাচে ফিরে আসে ইরান। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ‘জি’র ম্যাচ শেষ হয় ২-২ গোলে।

ম্যাচের আগে থেকেই নজর ছিল গ্যালারিতে। ইরানি সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় তিন ধরনের পতাকা, ইরানের বর্তমান সরকারি পতাকা, প্রাক-বিপ্লবী ‘সান অ্যান্ড লায়ন’ পতাকা এবং প্রতীকবিহীন সবুজ-সাদা-লাল পতাকা। ফিলিস্তিনি পতাকাও দেখা গেছে গ্যালারির এক পাশে।

ইরানের জাতীয় সংগীত বাজতেই স্টেডিয়ামের এক অংশ থেকে দুয়ো ভেসে আসে। আবার অনেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। মাঠের বাইরে প্রতিবাদ থাকলেও মাঠে ইরান শুরু করে দারুণ উদ্দীপনায়। কিক-অফের পরপরই উচ্চ প্রেসে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে তারা।

কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লম্বা বল ধরে রাখেন ক্রিস উড। এরপর ডান পাশে থাকা এলিজাহ জাস্টকে পাস দেন তিনি। জায়গা বের করে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান জাস্ট। শুরুতে ভালো খেলেও পিছিয়ে পড়ে ইরান।

গোলের পরও ম্যাচের গতি কমেনি অবশ্য। ১২ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শট নেন সারপ্রিত সিং, তবে সেটি লক্ষ্যে ছিল না। ১৫ মিনিটে নিউজিল্যান্ড কর্নার পায়। ছোট পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে উড দ্রুত ঘুরে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইরানের রক্ষণ সেটি আটকে দেয়।

১৭ মিনিটের পর থেকে ম্যাচ আরও খোলা হয়ে ওঠে। দুই দলই দ্রুত আক্রমণে উঠছিল। ১৯ মিনিটে দূর থেকে শট নেন সারপ্রিত সিং, তবে বেইরানভান্দ সহজেই বল ধরেন। ২৩ মিনিটে ইরান পায় বড় সুযোগ। মাঝপথ দিয়ে উঠে দূরপাল্লার শট নেন তারেমি। ক্রোকম্বকে হারালেও বল ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

২৫ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেক হয়। বিরতির পরও ইরানের চাপ চলতে থাকে। ২৯ মিনিটে তারেমির চাপের মুখে ক্রোকম্ব বল থেকে দূরে সরে যান। সুযোগ দেখে সামান ঘোদ্দোস দূর থেকে ভলিতে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু শট ঠিকমতো জমেনি।

অবশেষে ৩২ মিনিটে সমতায় ফেরে ইরান। একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ড রক্ষণকে চাপে রাখছিল তারা। ঘোদ্দোস সামনে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন, মোগানলু পড়ে যান। কাছেই থাকা রেজাইয়ান দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় ডান পায়ে বল জালে পাঠান। ক্রোকম্বকে ফাঁকি দিয়ে বল যায় নিচের বাঁ কোণে। স্কোরলাইন হয় ১-১।

ইরানের সমতার পর গ্যালারির এক অংশ থেকে দুয়ো শোনা যায়। তবে একই সঙ্গে ইরানি সমর্থকদের উল্লাসও বাড়তে থাকে। শেষ ১০ মিনিটে তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়।

৩৮ মিনিটে নিউজিল্যান্ড খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে পেছন থেকে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে। ৪৪ মিনিটে ইরানি রক্ষণ কাকাচেকে ফাউল করলে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় নিউজিল্যান্ড। ৪৫ মিনিটে উডের নিচু শট সরাসরি বেইরানভান্দের হাতে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ৪৫+১ মিনিটে দূর থেকে শট নেন ম্যাককোয়াট, তবে সেটি ছিল দুর্বল। ৪৫+৩ মিনিটে লং থ্রো থেকে পেছন ঘুরে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন মোগানলু, বল জালের ওপর দিয়ে যায়। ৪৫+৫ মিনিটে প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল ইরান। প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে হেড করেন নেমাতি। বল জালে গেলেও অফসাইডের পতাকায় থেমে যায় ইরানের উদযাপন।

প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। শুরুতে ইরানের উচ্চ প্রেস, নিউজিল্যান্ডের পাল্টা আঘাত এবং পরে রেজাইয়ানের গোলে ম্যাচ তখনই জমে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। ৪৬ মিনিটে তারেমির দিকে পাঠানো লম্বা বল দারুণভাবে ক্লিয়ার করেন ফিন সারম্যান। ৪৭ মিনিটে দূর থেকে শট নেন উড, তবে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৪৯ মিনিটে রেজাইয়ানের কর্নার হেড করে ফেরান সারম্যান। ফিরতি আক্রমণে ঘায়েদির শটও আটকে যায়।

৫১ মিনিটে ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন মোগানলু, কিন্তু বল দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৫৩ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনে ইরান। মোগানলুর জায়গায় নামেন আলি আলিপুর।

এর এক মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উডের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন জাস্ট। সামনে এগিয়ে আসা বেইরানভান্দের ওপর দিয়ে তুলে দেন বল। সেটি জালে জড়ালে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল পান জাস্ট, আর নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

গোলের পর কিছুটা ধাক্কা খেলেও দ্রুত আক্রমণে ফেরে ইরান। ৫৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে হেড নেন তারেমি। ক্রোকম্ব এগিয়ে এসে প্রথম হেড ঠেকান। বল কাছেই থাকা মোহেব্বির দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু আবারও ঝাঁপিয়ে বিপদ দূর করেন নিউজিল্যান্ড গোলরক্ষক। পরে অফসাইডের বাঁশি বাজে।

৬০ মিনিটের পর ম্যাচ আরও উন্মুক্ত হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ড তখন বল ছাড়া অপেক্ষা করে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ইরান বারবার চাপ বাড়াতে থাকে। ৬৪ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় তারা। ডান দিক থেকে রেজাইয়ানের ক্রসে দারুণ হেড করেন মোহেব্বি। বল যায় গোলের নিচের বাঁ কোণে। স্কোরলাইন ২-২।

গোলের পর ইরানি সমর্থকেরা আবারও গর্জে ওঠেন। ৬৫ মিনিটে ঘোদ্দোসের জায়গায় এহসান হাজসাফিকে নামায় ইরান। ৬৯ মিনিটে ক্রোকম্বের চিকিৎসার সময় কুলিং ব্রেক হয়। নিউজিল্যান্ডও তখন পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেয়।

শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচে শারীরিক লড়াই বাড়তে থাকে। ৭৫ মিনিটের দিকে ইরান আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল, আর নিউজিল্যান্ড তুলনামূলক ধৈর্য ধরে শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। ৭৮ মিনিটে টিম পেইনের জায়গায় কালান এলিয়টকে নামায় নিউজিল্যান্ড।

৮০ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করেন তারেমি, কিন্তু বল অনেক ওপর দিয়ে যায়। এরপরই তাকে তুলে নিয়ে আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহকে নামায় ইরান।

৮৩ মিনিটে উডের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে আঘাত পান খালিলজাদে। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন এজাতোলাহি, কিন্তু বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়। ৮৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে কার্লিং শট নেন মোহেব্বি, তবে সেটি সরাসরি ক্রোকম্বের হাতে যায়।

৮৯ মিনিটে খারাপ ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন হাজসাফি। একই মিনিটে কর্নার পায় ইরান। বাঁ দিক থেকে আসা কর্নারের পর বল বক্সের ডান পাশে পড়ে, কিন্তু শেষ শটটি ঠিকমতো নিতে পারেনি তারা। দ্রুত বল ক্লিয়ার করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড।

যোগ করা সময় ছিল পাঁচ মিনিট। ৯০+৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে বল লক্ষ্যে পাঠানোর চেষ্টা করেন উড। তবে তার চেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন বেইরানভান্দ। ৯০+৪ মিনিটে শেষবারের মতো কর্নার পায় ইরান। বাঁ দিক থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে হেড করেন একজন ইরানি খেলোয়াড়। বল আবার গোলমুখে ফিরছিল, কিন্তু থমাস পেছনের দিকে হেড করে বিপদ সরিয়ে দেন। আর কোনো ইরানি খেলোয়াড় বল ছুঁতে পারেননি।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে শেষ বাঁশি বাজে। ২-২ ড্র নিয়েই শেষ হয় ইরান-নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর লড়াই।

উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে ফর্মে এগিয়ে ছিল ইরান। শেষ পাঁচ ম্যাচে তাদের ফর্ম ছিল জয়-জয়-জয়-হার-ড্র। মালি, গাম্বিয়া ও কোস্টারিকার বিপক্ষে শেষ তিন প্রীতি ম্যাচ জিতেছিল তারা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ফর্ম ছিল হার-হার-হার-হার-ড্র। ২০২৫ সালের জুনে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর আর কোনো ম্যাচ জেতেনি তারা।

মাঠে চরম উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি;

কাতার-কানাডা ম্যাচ পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্যে তোলপাড় বিশ্বকাপ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
কাতার-কানাডা ম্যাচ পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্যে তোলপাড় বিশ্বকাপ

ভ্যাঙ্কুভার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'বি'-এর ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে সহ-আয়োজক দেশ কানাডা। তবে ভ্যাঙ্কুভারে স্বাগতিকদের এই ঐতিহাসিক জয়টি শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনা এবং হাতাহাতির কারণে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থের মাঝামাঝি সময়ে কাতারি মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর একটি বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হন কানাডার ইসমাইল কোনে। গুরুতর আহত কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই স্বাগতিক শিবিরের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষার পর রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম আহমেদও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হয়।

৯ জনের কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে কানাডা। দলের ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড হ্যাটট্রিক করে স্বাগতিকদের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় জয় এনে দেন। ম্যাচ চলাকালীন গোল করার পর কানাডিয়ান ফুটবলার নাথান সালিবা তাঁর দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরিতে পড়া সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠেই শ্রদ্ধা জানান।

তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ৯০ মিনিট ধরে জমে থাকা উত্তেজনা বিস্ফোরিত রূপ নেয়। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর উভয় দলের খেলোয়াড়, বিকল্প বেঞ্চের সদস্য এবং কোচিং স্টাফরা মাঠের মধ্যেই একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় ম্যাচ অফিশিয়ালদের।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখে ডাগআউটে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ চরম হতাশা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কাতারের স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগুইয়ের সাথেও তাঁর তীব্র উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও কথা কাটাকাটি হতে দেখা যায়।

৬-০ গোলের এই বিশাল জয় গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডাকে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেলেও, ইসমাইল কোনের গুরুতর ইনজুরি এবং ম্যাচ-পরবর্তী এই বিশৃঙ্খলা স্বাগতিকদের উদযাপনের আমেজকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। অন্যদিকে, মাঠে মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব, ৬ গোল হজম এবং দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের পর টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সমীকরণ কাতারের জন্য এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াল।

মেসির বাবার মৃত্যুর গুঞ্জন, মুখ খুলল পরিবার

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
মেসির বাবার মৃত্যুর গুঞ্জন, মুখ খুলল পরিবার

আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে অনেক কিছুই ঘটেছে। তার মধ্যে আলোচিত একটা ঘটনা ছিল প্রথম গোলের পর লিওনেল মেসির কান্না। সে কান্না কেন, মেসি মুখ খুলেছিলেন বটে, কিন্তু কারণটা পুরোপুরি খোলাসা করেননি।

সেদিন রাতেই জানা গিয়েছিল, তার বাবা হোর্হে মেসি অসুস্থ। তিনি এখন চিকিৎসাধীন আছেন। তার অসুস্থতার কারণ এখনও জানানো হয়নি। তবে মেসির বিশ্বকাপে খেলার মধ্যেই বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টাইন এক সাংবাদিক জানান হোর্হে মেসি নাকি মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিষয়টি চোখে পড়েছে মেসির পরিবারেরও। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিবৃতি এসেছে তাদের পক্ষ থেকে। পরিবারটি গণমাধ্যমের কাছে ‘মানবিকতা’ দেখানোর অনুরোধ জানায়। মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে বলে, ‘হোর্হে একটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।’

৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি ঠিক কী রোগে ভুগছেন, তা পরিবার থেকে খোলাসা করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি এখন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। তার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং ভালোর দিকে এগোচ্ছেন।’

এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের পর মেসি বলেছিলেন, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন একটা সময় পার করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

মেসির মিডিয়া অফিস থেকে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। একই দিনে আর্জেন্টিনায় হোর্হে মেসির মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার থেকে বলা হয়, ‘এই সময়ে আমরা দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা এবং মানবিকতা চাই। একজন মানুষের স্বাস্থ্য এবং তার পরিবারের মানসিক শান্তি জল্পনা বা দায়িত্বহীন গণমাধ্যমের আগ্রহের বিষয় হওয়া উচিত নয়।’

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে পরিবার নিজেই তা জানাবে।

রক্ষণভাগের চড়া মূল্য দিল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নেরা; প্রথমার্ধেই কাতারের জালে ৩ বল

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
রক্ষণভাগের চড়া মূল্য দিল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নেরা; প্রথমার্ধেই কাতারের জালে ৩ বল

প্রথমার্ধেই ৩ গোল দিলো কানাডা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি সহ-স্বাগতিক কানাডা ও কাতার। শুরুতে মাঠে কাতারকে আতিথ্য দেখায় কানাডা। ম্যাচের ১৬ মিনিটে প্রথম গোল। এরপর দ্বিতীয়, এরপর ৪২ মিনিটে তৃতীয় গোল হজর করে কাতার। ৩-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে মাঠ ছাড়ে কানাডা।

শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে শুরুতেই কাতারকে আতিথ্য দেখায় কানাডা।Geographic Reference

সহ-স্বাগতিক কানাডা ও এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি কাতারের এই ম্যাচটিতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যানের আঙ্গিকে কানাডাকেই স্পষ্ট ফেভারিট মানা হচ্ছে।

তবে ম্যাচে স্বাগতিক কানাডার ওপর থাকবে পাহাড়সম চাপ। আসরের বাকি দুই সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ঘরের মাঠে দাপুটে জয় পেয়েছে। তাই এই ম্যাচ জিতে কানাডাও ঘরের মাঠে জয়ের উৎসবে যোগ দিতে চাইবে।Geographic Reference


অপরদিকে, কাতারকে লড়তে হবে তাদের রক্ষণভাগের দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা ঢাকতে। প্রথম ম্যাচে শট, পাস ও বল পজিশনে গ্রুপের সবার নিচে ছিল তারা। তবে কাতারের একমাত্র স্বপ্ন ও ভরসার নাম দুইবারের এশিয়ান বর্ষসেরা ফুটবলার আকরাম আফিফ। ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে সে।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই এই দুই দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক দেখা। তবে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ভিয়েনায় এক প্রীতি ম্যাচে কাতারকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা।

কাতার দলকে উৎসাহ দিতে অভাবনীয় উদ্যোগ

ড্রাম বাজিয়ে মুখর কাতারিরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
ড্রাম বাজিয়ে মুখর কাতারিরা

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল দলকে অনুপ্রেরণা জোগাতে এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। দূরদূরান্তের ব্যবধান ঘুচিয়ে উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত কাতার জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে দেশ থেকে প্রায় এক হাজার সমর্থক পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চার্টার্ড বিমানে চড়ে এই বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী ইতিমধ্যে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে এসে পৌঁছেছেন। কানাডার বিপক্ষে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্বে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কাতারের এই রাজকীয় উদ্যোগ।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মসূচিটি একক কোনো উদ্যোগ নয়। কাতারের ‘সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড’ এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশন যৌথভাবে ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ নামে এই বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে।

এই কর্মসূচির আওতায় আসা ভাগ্যবান সমর্থকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার দায়িত্ব নিয়েছে কাতার সরকার। যার মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বিমানভাড়া, বিলাসবহুল ও অভিজাত হোটেলে আবাসন খরচ, স্থানীয় যাতায়াত এবং ম্যাচ টিকিটের যাবতীয় ব্যয়।

ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছানোর পর থেকেই কাতারি সমর্থকরা স্থানীয় সড়ক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘দারবুকা ড্রাম’ বাজিয়ে এবং উল্লাস করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন।

হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এই সমর্থকদের এমন ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে কাতার ফুটবল দলকে। সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাতারের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম বলেন, ‘এত পথ পাড়ি দিয়ে যারা আমাদের সমর্থন করতে এখানে এসেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। মাঠে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই, যাতে সমর্থকরা গর্ব নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়তে পারেন।’

ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, স্টেডিয়ামে যেন খেলোয়াড়রা একা বোধ না করেন এবং একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ পান, তা নিশ্চিত করতেই এই আয়োজন। শুধু কাতার থেকে আসা সমর্থকই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অধ্যয়নরত কাতারি শিক্ষার্থীদেরও মাঠে এসে দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে স্বাগতিক কানাডিয়ান সমর্থকদের তুলনায় কাতারিদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশ কম থাকবে।

প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলসমৃদ্ধ প্রায় ৩২ লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতার ২০২২ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। তবে স্বাগতিক হিসেবে সেবার গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

তবে এবারের বিশ্বকাপে কাতারের শুরুটা হয়েছে বেশ আশাপ্রদ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে বৌআলেম খৌখির নাটকীয় গোলে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে মাঠ ছাড়ে কাতার। অন্যদিকে, তাদের আজকের প্রতিপক্ষ কানাডাও বসনিয়া-হার্জেগোভেনিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার ভোরে ম্যাচটি দুদলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে অত্যন্ত সমীকরণ নির্ধারণী হতে যাচ্ছে।

৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিল ইংল্যান্ড

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিল ইংল্যান্ড

টমাস টুখেলের অধীনে দাপুটে ফুটবল খেলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোল ও নতুন রেকর্ডের রাতে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে থ্রি লায়নরা। দুই দফায় সমতা ফিরিয়েও শেষ পর্যন্ত ইংলিশ আক্রমণের তোড়ে হার মানতে হয় ক্রোয়াটদের।

ডালাসে গত বুধবার ‘এল’ গ্রুপের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে পুরো সময়জুড়ে আধিপত্য বজায় রাখে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে দুই গোল করেন কেইন। এছাড়া জুড বেলিংহ্যাম ও বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র‍্যাশফোর্ড একটি করে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

খেলার শুরুতেই ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন হ্যারি কেইন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ক্রোয়েশিয়া; মার্তিন বাতুরিনার গোলে দ্রুতই সমতায় ফেরে তারা। এরপর কেইন ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে নিলেও বিরতির আগে পেতার মুসা লক্ষ্যভেদ করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুড বেলিংহ্যামের গোলে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে র‍্যাশফোর্ড জালের দেখা পেলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টুখেলের শিষ্যরা।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে গ্যারি লিনেকারের এক অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেছেন হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করার কৃতিত্ব এখন যৌথভাবে এই দুই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের দখলে।

ইংল্যান্ড দলের নতুন কোচ হিসেবে টমাস টুখেলের জন্য এই জয়টি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ম্যাচে দলের আক্রমণাত্মক কৌশলের বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া লড়াই করার চেষ্টা করলেও ইংলিশ রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের সমন্বয়ের কাছে শেষ পর্যন্ত তারা পরাস্ত হয়।