১০ জুন ২০২৬

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ৫ বাংলাদেশি আশঙ্কামুক্ত

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, তারা সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ৫ বাংলাদেশি আশঙ্কামুক্ত

বুধবার (৩ জুন) ভোরে সংঘটিত এই হামলায় বিমানবন্দরটির ১ নম্বর টার্মিনাল ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

আহত বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের সার্বিক চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

হামলায় আহতদের মধ্যে যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে– শারমিন আখতার (মানিকগঞ্জ): গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন; মো. রাসেল শেখ (ফরিদপুর): হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন; মো. খলিল গাজী (সাতক্ষীরা): হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; শিরিন আখতার (পটুয়াখালী) ও মো. শরিফুল ইসলাম (ধামরাই, ঢাকা): প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

আহত প্রবাসীরা কুয়েতের ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল এবং শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, আহত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার মাত্র একদিন পরই ১ নম্বর টার্মিনালে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে উক্ত টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল আবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ৪ নম্বর টার্মিনাল থেকে কুয়েত এয়ারলাইনস এবং ৫ নম্বর টার্মিনাল থেকে জাজিরা এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য স্থানীয় নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা এখন এই দুটি এয়ারলাইনসের ওপরই ভরসা করছেন। ফলে টার্মিনাল দুটিতে যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফ্লাইট ও আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিমানের ভাড়াও।

আমিরাতে ১০০ কোটি টাকার লটারি জিতলেন নেপালের তায়েব খান, ভাগ দেবেন বন্ধুদের

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
আমিরাতে ১০০ কোটি টাকার লটারি জিতলেন নেপালের তায়েব খান, ভাগ দেবেন বন্ধুদের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত এক নেপালি নিরাপত্তা কর্মীর ভাগ্য বদলে গেছে রাতারাতি। লটারিতে তিনি ৩০ মিলিয়ন দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা) জিতেছেন। ২৬ বছর বয়সী ওই ভাগ্যবানের নাম তোয়াব খান। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করা এই যুবক হুট করেই একটি টিকিট কিনেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের গণমাধ্যম খালিজ টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তোয়াব খান ‘দ্য ইউএই লটারি’র ‘লাকি ডে’ ড্র-তে এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার জেতেন। তায়েব জানিয়েছেন, তিনি নিজে ড্র অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেননি। পরবর্তীতে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে খবর পান। প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পেরে তিনি বেশ কয়েকবার ফলাফলটি যাচাই করেন।

লটারি জয়ের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তায়েব খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এর আগেও আমি ছোটখাটো পুরস্কারের জন্য এই ধরনের ই-মেইল পেয়েছিলাম, তাই প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তেমন ভাবিনি। কিন্তু যখন আমি ই-মেইলটি খুললাম এবং ৩০ মিলিয়ন দিরহাম দেখলাম, তখন হাত-পা কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি।’


তায়েব জানান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি একাই পাচ্ছেন না। মূলত পাঁচ বন্ধু মিলে নিয়মিত টাকা জমিয়ে যৌথভাবে এই লটারির টিকিটগুলো কিনতেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এই জ্যাকপটের টাকা তাঁদের পাঁচজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। ফলে প্রত্যেকে পাবেন ৬০ লাখ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২০ কোটি ৮ লাখ টাকা)।

বন্ধুদের সঙ্গে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তায়েব বলেন, ‘আমরা মোট পাঁচজন ছিলাম। আমরা টাকা জমিয়ে নিয়মিত টিকিট কিনতাম। প্রতি সপ্তাহে আমাদের মধ্যে একেকজন পালা করে লটারির নম্বরগুলো বেছে নিত।’


লটারি জেতার পর তায়েব প্রথম কথা বলেন তাঁর চাচার সঙ্গে। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আমার চাচার কারণেই আমি প্রথম কাজের সন্ধানে এই দেশে (ইউএই) এসেছিলাম। যখন আমি তাঁকে জানালাম যে আমরা কত টাকা জিতেছি, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে যান এবং তাঁর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল।’

এই লটারি জয়ের পর তায়েব নিরাপত্তা রক্ষীর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তিনি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান। এ ছাড়া পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করা এবং নিজের কিছু দীর্ঘদিনের অপূর্ণ শখ পূরণ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আর তাঁর এই শপিং তালিকার সবার ওপরে রয়েছে একটি জিপ গাড়ি এবং একটি রোলেক্স ঘড়ি।

তায়েব বলেন, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য সব সময় ছিল পরিবারের জন্য একটি ভালো বাড়ি তৈরি করা। এখন আমি একটি ভালো জায়গায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করতে পারব।’

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চার বছর ধরে অন্যের অধীনে চাকরি করছি। এখন আমি পরবর্তী ধাপে যেতে চাই। আমি উদ্যোক্তা হতে চাই এবং বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলো ঘুরে দেখতে চাই।’

বাকি অর্থ দিয়ে তায়েব তাঁর সব ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করবেন, দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য করবেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবেন। আবারও কোনো নিরাপত্তা কর্মীর কাজে না ফিরে তিনি নিজ দেশেই ছোটখাটো একটি ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন।

লটারিতে এই ধরনের বড় জয় খুবই বিরল হলেও, তায়েবের এই গল্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে উন্নত জীবনের আশায় থাকা লাখো প্রবাসী শ্রমিকের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

লিবিয়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বাংলাদেশি, আড়াই মাস পর এলো মৃত্যুসংবাদ

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
লিবিয়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বাংলাদেশি, আড়াই মাস পর এলো মৃত্যুসংবাদ

লিবিয়ায় অপহরণের পর আলমগীর হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবককে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ঘটনার আড়াই মাস পর মৃত্যুসংবাদ পায় তার পরিবার। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান বলেন, আলমগীরকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। সোমবার দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ওনার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী আমাদের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। হঠাৎ ওনার মৃত্যুর খবর পাই।

স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।

মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসে আটক ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী

ভিসার শর্ত অমান্য ও অবৈধ ব্যবসার দায়ে মালয়েশিয়ায় কঠোর অ্যাকশন
প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসে আটক ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জন তাদের ভিসা বা পাসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, অনেকেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় যে উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছিলেন, বাস্তবে তারা তার বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

জাকারিয়া শাবান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশিদের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পাসের শর্ত অমান্য করা, অনুমোদন ছাড়া কাজ করা এবং বৈধ অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে অভিযান ও তদারকিও আরও বিস্তৃত করা হবে।

এ লক্ষ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ একটি বিশেষ ইনস্পেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট গঠন করেছে। পাশাপাশি বিদেশি অধ্যুষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান, আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন সূচক (কেপিআই) নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, বিদেশিদের দেওয়া অভিবাসন সুবিধা যেন শুধুমাত্র অনুমোদিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন বিভাগ বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেও বিভাগটি কাজ করে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসার অপব্যবহার, অবৈধ কর্মসংস্থান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ বাড়ায় মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

‘লাশ কাটাছেঁড়া কইরো না’, চিরকুট লিখে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়ে কিস্তির চাপ সইতে না পেরে চিরকুট লিখে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) জেলার কুমারখালী পৌরসভাস্থ ঝাউতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ জুলিয়া খাতুন (২৭) ওই এলাকার কাতার প্রবাসী শাহেদ ইসলাম জাহিদের স্ত্রী। জাহিদ ও জুলিয়া দম্পতির সাত বছর বয়সী তানহা নামে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে জুলিয়া খাতুন লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে আপনারা সবাই মাফ করে দিবেন। মা তুমি আমাকে মাফ করে দিও। আমি তোমার ভালো মেয়ে হতে পারিনি। তানহাকে তুমি দেখে রেখ।’ ‘আর আমার শেষ ইচ্ছে হলো আমাকে যেন কোনো পুরুষ না দেখে, সেইটা তোমরা দেখো। আর আমার লাশটাকে তোমরা কাটাছেড়া কইরো না। এটাই আমার শেষ ইচ্ছে। তোমরা পুলিশের কাছেও যেও না কেউ। ও মা, তুমি ঠিকই বলেছিলে। আল্লাহর কাছে সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায় না। আমাকে মাফ করে দিও।’

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাহিদের সঙ্গে জুলিয়ার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তানহা নামের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। প্রায় ছয় মাস আগে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কাতারে পাড়ি জমান জাহিদ। কিন্তু সেখানে চুক্তি অনুযায়ী তিনি কাজ পাননি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেন না তিনি। তার শাশুড়ি, বাবা ও স্বজনরা মিলে কিস্তির টাকা কমবেশি করে পরিশোধ করেছেন। তবুও দুই মাসের কিস্তির টাকা বকেয়া পড়ে গেছে। সোমবার সকালেই একটি এনজিওর দুই হাজার টাকার কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সকাল ৭টার দিকে নিজ ঘরে মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় মেয়ে তানহা। পরে এরপর স্বজনরা জানালা ভেঙে তাকে নিচে নামিয়ে পানি ঢেলে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জুলিয়ার চাচা রজব আলী বলেন, ‘সংসারে কোনো অভাব ছিল না। তবে জামাই অনেক টাকা ঋণ করে বিদেশ গেছেন। কিন্তু কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী কাজ দেয়নি। সেই কিস্তির চাপ সইতে না পেরে চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছে জুলিয়া।’

জুলিয়ার শ্বশুর ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সংসারে কোনো ঝামেলা নেই। কারো সঙ্গে ঝগড়াও নেই। তবে একটাই সমস্যা লোন আছে। এই টাকা আস্তে আস্তে দিচ্ছে। কিন্তু এই মাসে টাকা পাঠাতে পারেনি আমার ছেলে। সকালে ঋণের কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এ ঘটনা ঘটে গেছে।’

কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অর্থনৈতিক দৈন্যতা থেকে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরহাল শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬
কাতার ভিসায় চরম অনিয়ম, বিএমইটি ছাড়পত্র ঘিরে দালাল চক্রের তৎপরতা

বাংলাদেশ থেকে কাতারে শ্রমিক পাঠানোর পুরো ভিসা ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘অসত্যায়িত ভিসা’ বা অসম্পূর্ণ ভিসা ব্যবহার করেই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হাজারো কর্মী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র প্রকৃত নিয়োগকারী কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, বৈধ চাকরির চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং কাজের ধরন যাচাই ছাড়াই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘অসত্যায়িত’ বা আংশিক যাচাইকৃত ভিসা ব্যবহার করে বিএমইটি ছাড়পত্র নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর্মীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছে।

দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক কর্মী কাতারে পৌঁছে নির্ধারিত কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের জন্য প্রতিশ্রুত চাকরি, বেতন কিংবা কাজের পরিবেশ বাস্তবে অনুপস্থিত থাকে। ফলে তারা কর্মহীন অবস্থায় পড়ছেন, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।

পরবর্তীতে এসব কর্মীর একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আটক, জরিমানা বা ডিপোর্টেশনের শিকার হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভিসায় নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম, ঠিকানা, কাজের প্রকৃতি কিংবা বেতনের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। এ ধরনের ভিসা ব্যবহার করেই ছাড়পত্র নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএমইটি ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভিসা ও নিয়োগ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ যাচাই না হলে পুরো শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স, বিদেশি নিয়োগদাতার অস্তিত্ব, কাতার দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সত্যায়িত (attestation) হয়েছে কি না এবং নিয়োগ চুক্তিপত্র কঠোরভাবে যাচাই না করলে এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের শ্রম রপ্তানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও কঠোর নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে।