১৯ জুন ২০২৬
পর্দার আড়ালে পাকিস্তান-চীন-কাতার জোট;

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যেভাবে মধ্যস্থতা করল পাকিস্তান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যেভাবে মধ্যস্থতা করল পাকিস্তান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার শেষ পর্যায়ে একাধিকবার সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিবারই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির হস্তক্ষেপ করে আলোচনা সচল রাখেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

শেহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা যখনই অচলাবস্থার মুখে পড়েছে, তখনই আসিম মুনির সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ ও সমন্বয় চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে সেনাপ্রধান দিন-রাত কাজ করেছেন এবং হাল ছাড়েননি বলেই শান্তি প্রক্রিয়া টিকে ছিল।

জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন মনে হচ্ছিল আলোচনা থেমে যাবে। তার মতে, সেই পর্যায়গুলোতে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত না থাকলে শান্তির সম্ভাবনাও ভেঙে পড়ত।

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু দিক প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত এবং তাতে বিপুল প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান কীভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে, সে সম্পর্কেও এতে ধারণা পাওয়া যায়।

শেহবাজ শরিফ এ সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তার কূটনৈতিক দল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও চীনের নেতাদেরও মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধবিরতির খবর প্রথম জানান শেহবাজ শরিফ। এর কিছু সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

পাকিস্তানের আয়োজনে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির আশপাশে মোতায়েন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথাও রয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইরানি সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আপাতত এই আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আলোচনা পরিচালিত হয়েছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেন। জাতীয় পরিষদে শেহবাজ শরিফ তার নাম উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ‘অসাধারণ প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের’ পরিচয় দিয়েছেন।

পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার পথ সহজ ছিল না। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার আগে ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে আসিম মুনির একাধিকবার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, পরে ইসলামাবাদের অনুরোধে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।

এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই আলোচনায় অংশ নিলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

সরাসরি আলোচনা কয়েক সপ্তাহ স্থগিত থাকলেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। প্রকাশ্যে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত না থাকলেও নেপথ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলতে থাকে।

সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক জওহর সেলিমের মতে, ইসলামাবাদের এই ভূমিকা কেবল কৌশলগত সমন্বয়ের বিষয় ছিল না; এটি ছিল ‘কখনো হাল না ছাড়ার কূটনীতি’র উদাহরণ। তার মূল্যায়নে, উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য সৎ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা আস্থার সংকট কাটাতে সহায়তা করেছে।

এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান একা ছিল না। গত ৩১ মার্চ পাকিস্তান ও চীন যুদ্ধ বন্ধে যৌথ পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে বেইজিংয়ের উদ্বেগও এ উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মে মাসে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একাধিকবার ইসলামাবাদ সফর করে আসিম মুনির ও শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার এক সফরে তিনি বলেছিলেন, ‘ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’

শেষ পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়। শনিবার (১৩ জুন) ইসহাক দার সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন, কারণ তখন আলোচনা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভাষায় ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছে যায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও অবিচ্ছিন্ন মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

একই দিন শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত সম্মতিপ্রাপ্ত খসড়ায়’ পৌঁছেছে। তিনি তখন বলেন, ‘শান্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছে।’ তবে ওই সময় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি সইয়ের জন্য তাদের আলোচক দলের বিদেশ সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বজায় ছিল।

রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ইসরাইলি হামলার পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রশ্ন তোলেন, ওয়াশিংটনের আদৌ চুক্তি বাস্তবায়নের সদিচ্ছা বা সক্ষমতা আছে কি না। তবু কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে থাকেনি এবং শেষ পর্যন্ত শেহবাজ শরিফের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্পও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জাতীয় পরিষদে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদানের জন্য পাকিস্তান যে সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছে, তা অর্জনের চেষ্টা বহু দেশ দশকের পর দশক ধরে করে আসছে।’

শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘অনেক সময় মনে হয়েছিল যে আলোচনা থেমে যাবে। কিন্তু সেনাপ্রধান হাল ছাড়েননি। এই যাত্রা যদি অব্যাহত না থাকত, তাহলে শান্তির স্বপ্ন ভেঙে যেত।’

আব্বাস আরাঘচির ভাষ্য ছিল, ‘ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’

গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত, নৌ চলাচল, নিষেধাজ্ঞা, স্থগিত সম্পদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারসহ একাধিক দেশ নেপথ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। সোমবার শেহবাজ শরিফের বক্তব্যে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের ভূমিকার বেশ কিছু নির্দিষ্ট দিক সামনে আসে।

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি প্রকাশ ও স্বাক্ষর করেছেন, তাকে কৌশলগত এবং রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তবে বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু চার মাস পর দেশটির নির্বাচনের ঠিক আগে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারক মেনেই তাকে শান্ত থাকতে হচ্ছে; সেই সঙ্গে হজম করতে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘন ঘন সমালোচনা।

আন্তর্জাতিক মহলে নেতানিয়াহু এখন প্রায় একা, যিনি বিশ্বাস করেন এই চুক্তি একটি ভুল এবং যুদ্ধ আরও চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এমনকি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কট্টরপন্থি সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই চুক্তির পক্ষে আঞ্চলিক ঐকমত্যে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওয়াশিংটনেও নেতানিয়াহুর রিপাবলিকান মিত্র এবং গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা এই চুক্তির পুরোপুরি সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান চুক্তির বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু যেভাবে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন, এবার আর তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়াতে না চাইলে নেতানিয়াহু এখন কেবল টেলিভিশনগুলোতে গিয়ে এই চুক্তির সোজাসুজি বিরোধিতাও করতে পারছেন না।

প্রকাশ্যে নিন্দা না জানালেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া ব্রিফিংয়ে এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুপন্থি গণমাধ্যমগুলো—যার বেশির ভাগই এতদিন কট্টর ট্রাম্প-ভক্ত ছিল—তারা এখন ট্রাম্প ও তার টিমের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। নেতানিয়াহুপন্থি চ্যানেল ১৪-এর প্রাইম টাইম শো-এর এক সঞ্চালক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘লম্পট’ বলে গালি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আর্থিক সুবিধার জন্য ইসরায়েলকে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছেন বলে একটি ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য ব্যবহার করে অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সহযোগিতার জন্য নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর কিছু খোঁচাও মেরেছেন। নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘বিবি একজন ভালো মানুষ। তিনি মাঝে মাঝে একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তবে আমাদের অংশীদারত্ব চমৎকার। আমরা হলাম বড় অংশীদার, আর তিনি হলেন খুবই ছোট অংশীদার।’

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে বৈরুতে একটি হামলার নির্দেশ দিয়ে নেতানিয়াহু এই চুক্তিটি প্রায় ভেস্তেই দিয়েছিলেন, তার আসলে কোনও ‘বিচারবুদ্ধি নেই’।


রবিবার ট্রাম্প যখন এই চুক্তির ঘোষণা দেন, তখন নেতানিয়াহু বেশ চমকে যান। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দাবি করেছিলেন যে ইসরায়েলকে এই সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বুধবার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, নেতানিয়াহু হয়তো চূড়ান্ত দফাগুলো দেখেননি, তবে ইসরায়েলিরা কখনোই তা দেখতে চায়নি এবং পুরো আলোচনাকালীন হোয়াইট হাউস নেতানিয়াহুকে বিস্তারিত অবহিত করেছিল।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পও বলেন, তিনি একটি কপি পাঠিয়েছেন। ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সংশয় থাকা সত্ত্বেও তিনি ভ্যান্স, কুশনার ও উইটকফকে বলেছিলেন যে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাজি হওয়া পারমাণবিক ছাড়গুলো মেনে চলে, তবে এটি হবে একটি দারুণ চুক্তি।

নেতানিয়াহুর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো লেবানন। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইও অন্তর্ভুক্ত এবং যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে নেতানিয়াহুর এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই সমঝোতা স্মারকের লেবানন অংশটি মানতে বাধ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে স্পষ্ট বলেছেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরবে না। বুধবার ট্রাম্পও স্বীকার করে বলেন, ‘লেবানন নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ রয়েছে।’

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলছে, এটি কোনও ‘একপেশে যুদ্ধবিরতি’ হবে না এবং হিজবুল্লাহ হামলা চালালে ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, ইসরায়েল আগামী ৬০ দিন লেবাননের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কাজে লাগাবে এবং এই আলোচনার মাধ্যমেই ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হতে পারে, ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কারণে নয়। বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশলের আবারও সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একটি আস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

মূল বিষয় হলো, যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতীতে নেতানিয়াহুর প্রায়ই ঝগড়া হতো, তারাও ইসরায়েলের বিষয়ে এতটা সরাসরি ও কঠোর সমালোচনা করেননি। নিজের সবচেয়ে অপরিহার্য মিত্রের কাছ থেকে এমন আঘাত হজম করা নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্য দেশের কাছে থাকলে ইরানের কাছে না থাকাটা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, অঞ্চলের অন্যান্য দেশের কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তবে ইরানের কাছে তা না থাকাটা ‘অন্যায়’।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকটি আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামার পর ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্নটি করেন। তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকাকে সমর্থন করা নিয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চান।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, আমরা বিষয়টি বুঝি। যদি অন্য দেশের কাছে এটা (ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র) থাকে, এটা কিছুটা অন্যায় যে ইরানের থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা (পারমাণবিক অস্ত্র) নিয়ে কথা বলছি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেটা নয়। যদি সৌদি আরব-কাতারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, আমি বলতে চাই, প্রাসঙ্গিক অনুপাতে এটা ইরানের কাছে থাকা ঠিক আছে বলে মনে করি।’

ট্রাম্পের এই অবস্থান ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়ের বিপরীত। হামলার পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি। এমনকি ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে বলেও দাবি তুলেছিলেন তিনি।

ইরানে ৪০ দিনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্যও ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুড়িয়ে দেওয়া। পুরো সময়জুড়ে ক্রমাগত হামলা হয় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারগুলোতে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানের অনেকটা বিপরীত। যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে সেখানেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সীমিত করার কোনো আলাপ দেখা যায়নি।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে: ট্রাম্প
জি-সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফ্রান্সে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কাজেই দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং তার পরবর্তী আলোচনা দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

ফ্রান্সে চলমান জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ট্রাম্প। এ সময় সাংবাদিকদের এই আশাবাদের কথা জানান তিনি।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে ইতিমধ্যে ডিজিটালি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে শুরু হবে পরবর্তী ধাপের আলোচনা। সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ ৬০ দিন। এই সময়সীমার মধ্যে পরবর্তী ধাপের আলোচনা শেষ করতে হবে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সফলভাবে আলোচনা শেষ করতে চায়। নিজেদের কাজে ফিরতে চায় তারা এবং সম্পর্কও এখন স্বাভাবিক হয়েছে। কাজেই আমি মনে করি, এটা (পরবর্তী ধাপের আলোচনা) খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘(আলোচনা) দ্রুত হবে, আবার দীর্ঘায়িতও হতে পারে, তবে (অবস্থা দৃশ্যে মনে হচ্ছে) দ্রুতই আলোচনা সম্পন্ন হবে।’

ফ্রান্সে ট্রাম্প-মোদির সাক্ষাৎ, চিরচেনা আলিঙ্গন অনুপস্থিত

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
ফ্রান্সে ট্রাম্প-মোদির সাক্ষাৎ, চিরচেনা আলিঙ্গন অনুপস্থিত

বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ১৬ মাস পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাক্ষাৎ করলেও মোদির ট্রেডমার্ক আলিঙ্গন অনুপস্থিত ছিল। গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বঁ শহরে আয়োজিত জি-৭ নেতাদের সমাবেশে তাঁরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আলোচনা করেন। দুই দেশের সম্পর্কে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সম্মেলনস্থলে মোদি ও ট্রাম্প করমর্দনের পর সংক্ষিপ্ত আলাপে অংশ নেন। যদিও তাঁদের ওই আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, তা জানা যায়নি। তবে বুধবার সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের পর থেকে দুই দেশ আবারও সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগে এগোচ্ছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ এবং গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর।

পরবর্তী কয়েক মাসে ট্রাম্প বারবার প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত প্রশমিত করেছেন এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অবস্থান ছিল, সংঘাতের অবসান হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি এবং এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও দুই দেশের সম্পর্কের অবনতিতে ভূমিকা রাখে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশ সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকেও অগ্রগতি হয়েছে।

তবে গত সপ্তাহে নতুন করে সম্পর্কে চাপ তৈরি হয় ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর। একটি জাহাজে থাকা তিন ভারতীয় নিহত হওয়ার ঘটনায় নয়াদিল্লি ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে। ভারত জানায়, ভারতীয় নাবিক থাকা বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর ‘প্রাণঘাতী ও মারাত্মক’ হামলা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এ বিষয়ে মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের এই অবস্থান ও উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ মার্কিন অনুমতি ছাড়া তেল পরিবহন করতে পারবে না। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ৮ জুন মারিভেক্স, ৯ জুন সেট্টেবেলো এবং ১১ জুন এমটি জলভির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজগুলো ইরানের বন্দর অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল।

মোদি-ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎ ছিল গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির ওয়াশিংটন ডিসি সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। আজ বুধবারের বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর পর্যালোচনা করতে পারেন। আলোচনায় চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।

এই বাণিজ্য চুক্তিকে একটি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতেও মতবিনিময় করতে পারেন। গত মাসে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় রুবিও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘নিকট ভবিষ্যতে’ হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানান। রুবিও ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ওয়াশিংটনের কৌশলের ‘ভিত্তিস্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, জি-৭ সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিতে মোদি বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন। গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭ বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির জোট। সদস্য দেশগুলো হলো কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই জোটের সদস্য। বিশ্বের অর্থনৈতিক, আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম প্রধান ফোরাম হিসেবে কাজ করে জি–৭।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে: ট্রাম্প

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নথিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজে এই নথিতে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি সফলভাবে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটানোর ব্যাপারে তার অঙ্গীকার দেখাতে চেয়েছিলেন।’

তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।

এরইমধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তির সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।