১৫ জুন ২০২৬

কাতার, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান ‘বোঝানোর’ পর ইরানে হামলা থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচমকা ইরান আক্রমণের হুমকি ও কঠোর হুঁশিয়ারির পর শেষ মুহূর্তে যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া কূটনৈতিক চেষ্টায় সফল হয়েছেন কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা।
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
কাতার, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান ‘বোঝানোর’ পর ইরানে হামলা থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন—'আজ রাতেই ইনে কঠিন আঘাত হানব'। এই পোস্টের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলাতে মরিয়া চেষ্টায় নেমে যান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ফোন করে তারা বলেন, একটি প্রাথমিক চুক্তি একেবারে হাতের নাগালে, যা আগামীতে আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত একজন কূটনীতিক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, এই ফোনকলগুলো ফোন করেছিলেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের বিশ্বাস, তেহরান ও সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ওপর এই দেশগুলোর ভালো প্রভাব রয়েছে। চুক্তি যে প্রায় চূড়ান্ত—তাদের এই আশ্বাস পেয়েই শেষ মুহূর্তে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসেন ট্রাম্প।

এরপর ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন, চলতি সপ্তাহান্তেই (উইকএন্ড) চুক্তি সই হয়ে যেতে পারে।

পরে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরান যুদ্ধের একটা দারুণ চুক্তি করে ফেলেছি আমরা। এখন শুধু নথিপত্র চূড়ান্ত করার অপেক্ষা। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব শেষ হবে।'

তবে ইরান বলছে অন্য কথা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই বলেছেন, আলোচনার টেক্সটের বড় একটি অংশ চূড়ান্ত হলেও নিজেদের রেডলাইন কোনো আপস করবে না তেহরান।

'চুক্তির ব্যাপারে ইরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তারপরও মার্কিন ও আরব কর্মকর্তারা আশাবাদী যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা হয়তো বাস্তব চুক্তিরই পূর্বাভাস। যদিও চার মাস ধরে চলা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথে এখনো বিস্তর বাধা রয়ে গেছে।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে অবগত একজন ব্যক্তি বলেন, আপাতত আলোচনার টেবিলে কেবল দুটি বিষয় রয়েছে—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আরও সময় লাগবে; হরমুজ উন্মুক্ত করাটা কেবল প্রথম পদক্ষেপ।

আর খামেনেই আদৌ এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকেই গুরুতর জখম হয়েছেন তিনি। এখন তিনি এমন জায়গায় আছেন, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেই। ফলে যেকোনো প্রস্তাবে তার মতামত আসতে কয়েক দিন লেগে যাচ্ছে।

অনেক কূটনীতিবিদই অবশ্য খামেনির সম্মতির বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। একজন আরব কূটনীতিবিদ বলেন, 'নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত আমি এটা বিশ্বাস করছি না।'

হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের তথ্যমতে, চুক্তির সত্যতা নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে কার সাথে আলোচনা করছে তার ওপর। ওই সূত্র বলেছে, 'আলোচনা যদি (ইরানের) রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তব। কিন্তু পক্ষটি যদি হয় আইআরজিসি, তাহলে ভরসা কম।'

গত কয়েক দিনে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একের পর এক প্রস্তাব চালাচালি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছিল। ইরান তাকে কেবল ঘোরাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

এরইমধ্যে চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি আবার তেতে ওঠে। ইরান একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করলে দুই পক্ষ নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে। মূলত ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে বাধ্য করতেই ট্রাম্প এই চাপ সৃষ্টির কৌশল নেন।

আলোচনার খসড়া সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং অপর এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দরকষাকষির অংশ হিসেবে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ছাড় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে আমেরিকা এই অর্থ কেবল নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটায় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হলে ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ ছাড় না করার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন।

গত সপ্তাহে রুবিও কংগ্রেসে বলেছিলেন, কেবল হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ইরানের ওপর থেকে কোনো আগাম নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে না। সেটি সম্ভব কেবল পরবর্তী আলোচনাগুলোতে, যেখানে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ মানতে রাজি হবে।

তবে নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটার জন্য এই আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলে ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে পারে। তেহরানের দাবি ছিল, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তাদের অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে হবে।

তবে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য চুক্তিই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘খুবই কঠিন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি খুবই কঠিন একজন মানুষ। আর সত্যি বলতে, আমাদের প্রতি তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে সেই অস্ত্রের সামনে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তির ফলে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের আয়ের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি।

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরায়েল।

এই সমঝোতার ঘোষণার পরই ইসরায়েলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছে। কয়েক মাস আগেও যেসব গণমাধ্যম ট্রাম্পকে ইসরায়েলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছিল, তারাই এখন তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত চৌদ্দ দিনের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই আকস্মিক হামলায় দেশটির আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমে আগুন লেগে যায়।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এই ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে বিশেষ আলোচনা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মস্কো কিয়েভে এই বড় ধরনের হামলা চালায়। এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক খাতের প্রধান প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

রোববার ইউক্রেনের সেনারা রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল স্থাপনায় সফল আঘাত হানে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে ওই স্থাপনাটি মস্কোর জ্বালানি মজুত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। একই সঙ্গে তিনি তুলা অঞ্চলের আজট রাসায়নিক কারখানাতেও সফল হামলার দাবি করেন যা রাশিয়ার বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম মূল কেন্দ্র।

রাশিয়া তাদের দেশে ইউক্রেনীয় হামলার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানান যে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় তাদের একটি শিল্প খাতের জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোগামী সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তুলা অঞ্চলের গভর্নর জানান যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নোভোমস্কভস্ক শহরের একটি কারখানার ভেতরে পড়েছে।

ইউক্রেন ছাড়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের লজিস্টিকস ও সামরিক সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও কিয়েভ বাহিনী একযোগে হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিন জানিয়েছে যে ফোনালাপে ট্রাম্প চলমান যুদ্ধের অবসানকে জরুরি বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কথা বলেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাদের এই ফোনালাপে মূলত যুদ্ধ বন্ধের নানা প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ব্রাজিলে মাঝআকাশে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ; পাইলটসহ নিহত ৬

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে মাঝআকাশে দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হেলিকপ্টার দুটিতে থাকা ক্রু ও আরোহীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ব্রাজিলে মাঝআকাশে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ; পাইলটসহ নিহত ৬

স্থানীয় সময় রোববার (১৪ জুন) সকালে শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহর রেক্রিও দোস বান্দেইরান্তেসের আকাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মাঝআকাশে সংঘর্ষের পর হেলিকপ্টার দুটি একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির শোরুমের (ইভি ডিলারশিপ) পার্কিং লটে ভেঙে পড়ে। এর ফলে পার্কিং লটে থাকা প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ফাবিও কনট্রেইরাস জানান, বৈদ্যুতিক গাড়ির লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এই ধরনের ব্যাটারিতে আগুন লাগলে তা অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে এবং আগুনের তীব্রতা ও তাপমাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একটি সাধারণ গাড়ির তুলনায় এই বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর আগুন নেভাতে তিন থেকে চার গুণ বেশি পানির প্রয়োজন হয়।


ফায়ার সার্ভিস আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ছিল। হেলিকপ্টার দুটি শোরুমের ফাঁকা পার্কিং লটে আছড়ে না পড়ে যদি আবাসিক এলাকায় পড়ত, তবে প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত। উদ্ধারকারীরা পার্কিং লটের জ্বলন্ত বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর ভেতর থেকে একটি হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে, যার ভেতর পাঁচজন আরোহীর মরদেহ পাওয়া যায়। এর থেকে প্রায় ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) দূরে অন্য হেলিকপ্টারটি পাওয়া যায়, যেখানে শুধু পাইলটের মরদেহ ছিল।

ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেশটির অ্যারোনটিক্যাল অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টারের (সিইএনআইপিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে রোববারের এই দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৮৪টি বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাহাড়ে আছড়ে পড়ল আমেরিকার ফাইটার জেট;

ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়ল দাবানল

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়ল দাবানল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টির পাহাড়ে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১২টার দিকে রিমরক লেকের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পাইলট বিমান থেকে নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। সামান্য আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান কর্মকর্তারা।

মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতির বরাতে কিরো টিভি জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ/এ-১৮ হরনেট মডেলের। এটি ‘মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১, তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইং’-এর অধীনে নিয়োজিত ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইংয়ের ঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামারে অবস্থিত।

নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার এবং ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্ট ফায়ার সার্ভিসের অন্তত একটি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটুকু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া বিমান বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কেও কোনও তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানান তারা।

ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিতকরণ আসেনি। শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেজফুল শহরে এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, দেশটির নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন লবিস্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছে। তার দাবি, এই প্রভাবের কারণে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এর আগে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।