মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ইরানের নেতারা 'শক্তিশালী' এবং 'অহংকারী' হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি।
তবে তিনি যোগ করেন, শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলস-এ এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতে হবে। তাদের কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে দুই দেশ গত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং কয়েক দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
চলমান এই সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগেই তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতাদের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সেইসব সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেন, যারা তাকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, 'এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর সময় লাগে।'
ইরানি নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'এই মানুষগুলো ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছে। তারা আমেরিকানদের হত্যা করছে। তাদের কারণে আমাদের মানুষ পা হারিয়েছে, হাত হারিয়েছে এবং তাদের মুখমণ্ডল বীভৎসভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
বর্তমান সংঘাতের সময়সীমার সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, 'আপনি কবে জিতবেন?'
তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি ডেমোক্র্যাট হতাম, তবে কেউ এভাবে কথা বলত না। কিন্তু আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাই এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না।'
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সংঘাতের এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ইরানের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, 'বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের এখনও সক্ষমতা আছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। আমি শতাংশের হিসেবে বলব, হয়তো তাদের ২১ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। সংখ্যার বিচারে এটি অনেক হতে পারে, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম সেই তুলনায় এটি কিছুই নয়।'
এদিকে ইরান চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে তাদের এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তারা কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের কড়া সমালোচক। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাবি করেছেন যে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে এই হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল।
গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা শ্রম দিবসের পরও বহাল থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সাথে চুক্তিতে না পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, 'আমরা কি চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর অন্য পথটি কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না।'