৮ জুন ২০২৬

ইরানের হাতে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
ইরানের হাতে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও দেশটির হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে ইরানের এখনো ২১ থেক ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা (ইরান) শক্তিশালী ও গর্বিত। কোনো সমঝোতা বা আলোচনা করতে হবে এমন কিছু তারা ভাবেনি। কিন্তু সেটাই করতে হবে। তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। তবে সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ঘিরে তা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আবারো বেড়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে সময় লাগে। বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

সংঘাতের সময়কাল নিয়ে ট্রাম্প ভিয়েতনাম যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। অথচ সবাই জানতে চায়, কবে জয় আসবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, অধিকাংশ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, অধিকাংশ উৎক্ষেপণ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু ড্রোন আছে। তিনি আরো জানান, আমরা প্রথম হামলা চালানোর সময় তাদের যে সক্ষমতা ছিল, এখন তা আর নেই।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আমরা কি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করব, নাকি অন্য পথ বেছে নেব? আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর নয়।

ইরান এখনো চুক্তিতে রাজি হয়নি, কারণ তারা ‘শক্তিশালী ও অহংকারী’: ট্রাম্প

তিনি বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, ‘আপনি কবে জিতবেন?’
প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ইরান এখনো চুক্তিতে রাজি হয়নি, কারণ তারা ‘শক্তিশালী ও অহংকারী’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ইরানের নেতারা 'শক্তিশালী' এবং 'অহংকারী' হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি।

তবে তিনি যোগ করেন, শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলস-এ এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতে হবে। তাদের কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।'

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে দুই দেশ গত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং কয়েক দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

চলমান এই সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগেই তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতাদের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সেইসব সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেন, যারা তাকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, 'এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর সময় লাগে।'

ইরানি নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'এই মানুষগুলো ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছে। তারা আমেরিকানদের হত্যা করছে। তাদের কারণে আমাদের মানুষ পা হারিয়েছে, হাত হারিয়েছে এবং তাদের মুখমণ্ডল বীভৎসভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'

বর্তমান সংঘাতের সময়সীমার সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, 'আপনি কবে জিতবেন?'

তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি ডেমোক্র্যাট হতাম, তবে কেউ এভাবে কথা বলত না। কিন্তু আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাই এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না।'

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সংঘাতের এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ইরানের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, 'বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের এখনও সক্ষমতা আছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। আমি শতাংশের হিসেবে বলব, হয়তো তাদের ২১ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। সংখ্যার বিচারে এটি অনেক হতে পারে, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম সেই তুলনায় এটি কিছুই নয়।'

এদিকে ইরান চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে তাদের এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তারা কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের কড়া সমালোচক। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাবি করেছেন যে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে এই হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল।

গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা শ্রম দিবসের পরও বহাল থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সাথে চুক্তিতে না পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, 'আমরা কি চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর অন্য পথটি কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না।'

ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির গত রাতে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সেনাবাহিনী ‘ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দুয়ারে আছে’। ক্রমবর্ধমান অভিযানের চাপ ও সৈন্য সংকট এই পরিস্থিতির কারণ বলে জানান তিনি।

চ্যানেল ১৩ নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জামির মন্ত্রীদের বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সামনে ১০টি লাল পতাকা তুলছি। আইডিএফের এখন একটি সেনা নিয়োগ আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সেনা সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন দরকার। অচিরেই আইডিএফ তার নিয়মিত কাজ করতে পারবে না এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাও টিকে থাকবে না।’

এই ধরনের সতর্কবার্তা জামির এর আগেও দিয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি সতর্ক করেন যে সৈন্য সংকট খুব শিগগিরই সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী বারবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে যে যুদ্ধের চাপ ও অন্যান্য সামরিক চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের ১২ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে।

২০২৪ সালের জুনে ইসরাইলের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেন যে হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের দশকের পর দশক ধরে চলে আসা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরপর থেকে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলো তাদের সম্প্রদায়কে সেনাবাহিনীর বাইরে রাখতে আইন করার দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার হারেদি পুরুষ সামরিক সেবার যোগ্য বলে মনে করা হয়, কিন্তু তারা এখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি।

‘আলবেনিয়া বিক্রির জন্য নয়’, ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
‘আলবেনিয়া বিক্রির জন্য নয়’, ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভিয়োসা-নার্তা সংরক্ষিত এলাকার কাছে একটি সমুদ্রসৈকতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই সংরক্ষিত এলাকাটি মূলত ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি, সিলদের আবাসস্থল। এছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননকেন্দ্র হিসেবেও জায়গাটি ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যুক্ত একটি কোম্পানির বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে আলবেনিয়ার মানুষ। পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর একটি এলাকায় এই রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী তিরানার রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ।

আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভিয়োসা-নার্তা সংরক্ষিত এলাকার কাছে একটি সমুদ্রসৈকতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই সংরক্ষিত এলাকাটি মূলত ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি, সিলদের আবাসস্থল। এছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননকেন্দ্র হিসেবেও জায়গাটি ব্যবহৃত হয়। জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান 'অ্যাফিনিটি পার্টনারস' এই রিসোর্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

পরিবেশবিদেরা এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, এটি নির্মিত হলে কয়েক শ হেক্টর সমুদ্রসৈকত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর যেসব ফ্ল্যামিঙ্গো এই এলাকায় ডিম পাড়ে বা যাতায়াত করে, তাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়বে।

পক্ষীবিদ লেডি সেলজেকায় জানান, বিশ্বের মোট ফ্ল্যামিঙ্গোর ১ শতাংশেরও বেশি আলবেনিয়ায় রয়েছে।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, 'অবশ্যই দেশে বিনিয়োগ আসাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, অর্থনীতির জন্যও এটি খুব দরকারি। কিন্তু আপনাকে খুব বুঝেশুনে জায়গা বেছে নিতে হবে। এই এলাকাটিকে এমনি এমনি তো আর "সংরক্ষিত এলাকা" বলা হয় না।'

গত সপ্তাহে ওই এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আনা এবং প্রাথমিক কাজ শুরু হওয়ার পরই স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে তিরানায় বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল গোলাপি রঙের ফ্ল্যামিঙ্গোর প্রতিকৃতি। তারা 'বিপ্লব' এবং 'প্রকল্প বন্ধ করো' বলে স্লোগান দেন। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: 'এডি রামা, পদত্যাগ করুন।'

এই বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা পর, শুক্রবার কিছু স্থানীয় বাসিন্দা পরিস্থিতি দেখতে ওই এলাকায় যান। এ সময় সেখানে পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লেখিকা লিন্ডিতা কোমানি বলেন, 'আলবেনিয়া বিক্রির জন্য নয়। আলবেনিয়া আলবেনিয়ার মানুষের এবং এখানে কী হবে তা আমরাই ঠিক করব। আলবেনিয়া শাসন করা গুটিকয় দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ আমাদের সম্পত্তি, প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে যা খুশি তা-ই করতে পারেন না।'

অবশ্য শুক্রবার ওই এলাকায় কোনো নির্মাণশ্রমিক বা ভারী যন্ত্রপাতির দেখা মেলেনি, যেগুলো গত কয়েক দিন ধরে মাটি প্রস্তুত করার কাজ করছিল।

কী বলছে সরকার?

প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এই প্রকল্পের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। অন্যদিকে ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হবে 'দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের উন্নয়ন।'

আলবেনিয়ার অর্থনীতি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী ডেলিনা ইব্রাহিমাজ বৃহস্পতিবার জানান, প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগের জন্য পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পটিকে অবশ্যই পরিবেশ আইন পুরোপুরি মেনে চলতে হবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।

আলবেনিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'এটিএ' তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, ইউরোপীয় পরিবেশগত নির্দেশিকা এবং আলবেনিয়ার আইন অনুযায়ী—সংরক্ষিত উপহ্রদ ও আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে, এমন যেকোনো প্রকল্পের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে।

একটি বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে এই রিসোর্ট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন কুশনার। ওই একই মহাপরিকল্পনায় সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের সাবেক সেনাসদর দপ্তরেও একটি বিলাসবহুল কমপ্লেক্স বানানোর কথা ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে গত বছর তিনি সার্বিয়ার সেই প্রকল্প থেকে পিছু হটেন।

ইরানের হাতে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
ইরানের হাতে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও দেশটির হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে ইরানের এখনো ২১ থেক ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা (ইরান) শক্তিশালী ও গর্বিত। কোনো সমঝোতা বা আলোচনা করতে হবে এমন কিছু তারা ভাবেনি। কিন্তু সেটাই করতে হবে। তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। তবে সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ঘিরে তা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আবারো বেড়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে সময় লাগে। বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

সংঘাতের সময়কাল নিয়ে ট্রাম্প ভিয়েতনাম যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। অথচ সবাই জানতে চায়, কবে জয় আসবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, অধিকাংশ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, অধিকাংশ উৎক্ষেপণ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু ড্রোন আছে। তিনি আরো জানান, আমরা প্রথম হামলা চালানোর সময় তাদের যে সক্ষমতা ছিল, এখন তা আর নেই।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আমরা কি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করব, নাকি অন্য পথ বেছে নেব? আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর নয়।

যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

তিনি বলেছেন, হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু মন্তব্য যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল।

যদিও ডাউনিং স্ট্রিট কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেনি, তবে বিষয়টি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যে বিতর্কের সূত্রপাত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, ইউরোপের রাজনৈতিক অভিজাতদের ‘স্ব-বিদ্বেষের রাজনীতি’ এবং ‘বিপুল অভিবাসন নীতি’ গ্রহণ না করলে হেনরি নওয়াক আজ বেঁচে থাকতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, অনেক অভিবাসী পশ্চিমা সমাজ ও পশ্চিমাপন্থী নাগরিকদের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব’ পোষণ করে।

এই মন্তব্যের পর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি কিছু ব্যক্তি আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন এবং আমাদের রাস্তায় বিভাজন উসকে দিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “নওয়াক পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই মৃত্যুকে ঘিরে যেন কোনও ধরনের বিভাজন, ঘৃণা বা উত্তেজনা তৈরি না করা হয়। আমাদের উচিত তাদের সেই ইচ্ছাকে সম্মান করা।”

হত্যাকাণ্ড ও বিচার প্রক্রিয়া
হেনরি নওয়াককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তাকে হাতকড়া পরাচ্ছে যখন তিনি মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিলেন। হামলাকারী ভিকরাম ডিগওয়া শুরুতে নওয়াকের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তোলেন, তবে পরবর্তীতে আদালতে তিনি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে ন্যূনতম ২১ বছরের কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে ব্যাপক জনমত তৈরি করেছে এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন স্বাধীন পুলিশ আচরণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা তদন্ত করছে।

আন্তর্জাতিক মন্তব্যে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরও এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘পশ্চিমা সভ্যতার অবক্ষয়ের’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে। তারা দাবি করে, ‘আদর্শিক শর্তায়ন’ এবং ‘দুই-স্তরের পুলিশিং’ পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগজনক লক্ষণ।

স্টারমার পরে এলবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “পুলিশকে অবশ্যই পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে হবে- কে কী বলছে বা কোন দেশ থেকে বলছে, তা বিবেচ্য নয়।” তিনি একই সঙ্গে বলেন, পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তোলাও জরুরি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও চাপ
লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার আহ্বান জানিয়েছে। দলের নেতা এড ডেভি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ব্রিটিশ গণতন্ত্রে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং বিভাজন উসকে দিচ্ছে।”

ডাউনিং স্ট্রিট অবশ্য জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ রয়েছে। তবে পুলিশিং ইস্যু নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে তিরস্কার করা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা কোনও মন্তব্য করেনি।

দুই-স্তরের পুলিশিং বিতর্ক
নওয়াক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কিছু ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও ভাষ্যকার অভিযোগ তুলেছেন যে যুক্তরাজ্যে ‘দুই-স্তরের পুলিশিং’ বিদ্যমান- অর্থাৎ পরিচয় বা আদর্শের ভিত্তিতে পুলিশের আচরণ ভিন্ন হয়।

এই বিতর্কে এক্সের মালিক ইলন মাস্ক এবং রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজও মন্তব্য করেন। তারা ঘটনাটিকে শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে সমালোচকেরা এসব মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি স্কাই নিউজকে বলেন, তিনি নওয়াক পরিবারের প্রতি মার্কিন সরকারের সমবেদনা স্বাগত জানান, তবে ‘যুক্তরাজ্যে দুই-স্তরের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা আছে’-এমন ধারণা তিনি স্বীকার করেন না।

স্টারমারের অবস্থান ও তদন্ত
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইতোমধ্যে হেনরি নওয়াকের পরিবারের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক করেছেন। তিনি জানান, হ্যাম্পশায়ার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং ‘ভুল সংশোধনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

এছাড়া পুলিশ আচরণবিষয়ক স্বাধীন সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত করছে, বিশেষ করে আহতাবস্থায় নওয়াককে হাতকড়া পরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে।

ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক, অভিবাসন নীতি এবং পুলিশিং সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।