৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানাল ইরান

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানাল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো বা স্থিতিশীলতার পথে ফেরার কোনো ইচ্ছা দেখাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং তাদের ‘সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড’ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করছে।

শনিবার (৬ জুন) দেশটির মন্ত্রণালয়ের এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানের সিরিক অঞ্চল এবং কিশম দ্বীপে উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, এসব ঘটনার দায় ও এর পরিণতির সম্পূর্ণ দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি ‘ভালো প্রতিবেশী নীতি’ অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যাতে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড বা অবকাঠামো ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিকল্পনা বা পরিচালনা করতে না পারে।

বিশ্বের ৩৬ দেশ নিয়ে পিউ রিসার্চের জরিপ

ইসরাইল বিরোধী মনোভাবের অন্যতম শীর্ষে বাংলাদেশ, সবচেয়ে কম ভারতে

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ইসরাইল বিরোধী মনোভাবের অন্যতম শীর্ষে বাংলাদেশ, সবচেয়ে কম ভারতে

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের তিন ডজন দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত ‘স্প্রিং ২০২৬ গ্লোবাল অ্যাটিটিউড সার্ভে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রাপ্ত তথ্যের গড় অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ বা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানাল ইরান

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানাল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো বা স্থিতিশীলতার পথে ফেরার কোনো ইচ্ছা দেখাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং তাদের ‘সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড’ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করছে।

শনিবার (৬ জুন) দেশটির মন্ত্রণালয়ের এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানের সিরিক অঞ্চল এবং কিশম দ্বীপে উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, এসব ঘটনার দায় ও এর পরিণতির সম্পূর্ণ দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি ‘ভালো প্রতিবেশী নীতি’ অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যাতে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড বা অবকাঠামো ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিকল্পনা বা পরিচালনা করতে না পারে।

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি করতে হলে প্রথমে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করতে হবে।

তিনি এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশ্বাসের পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন।

মোহসেন রেজায়ি আরও সতর্ক করে বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে খামেনির আরেক উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের শক্তি বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে অস্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।

ভেলায়াতির মতে, এটি ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতির ব্যর্থতা এবং প্রতিরোধ শক্তির একটি বড় সাফল্য।

যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে ইরান সীমান্তে কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইসরায়েল, ঘাঁটি ছিল সোমালিল্যান্ডেও

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে ইরান সীমান্তে কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইসরায়েল, ঘাঁটি ছিল সোমালিল্যান্ডেও
আজারবাইজান সীমান্তে ইরানের একটি ওয়াচ টাওয়ার। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল গোপনে আজারবাইজানে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছিল। একই সময়ে দেশটি সোমালিল্যান্ডে যুদ্ধবিমান জ্বালানি ভরার একটি ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজান-ইরান সীমান্তজুড়ে কয়েক ডজন ইসরায়েলি কমান্ডো ও মোসাদ এজেন্ট মোতায়েন ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানটি ছিল ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৬ কিলোমিটার দূরে। ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে তাবরিজে হামলা চালিয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে এই বাহিনীর দায়িত্ব ছিল কোনো ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরান ভূপাতিত করলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা। পরে তাদের মিশনের পরিধি বাড়ানো হয়। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহায়তা করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাদের।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষ অভিযান বিভাগের প্রধান রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা।

মোগাদ্দাম ইরানের ভেতরে ও বাইরে কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এসব কর্মীকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইসরায়েলি ও পশ্চিমা সামরিক স্থাপনা, বন্দর এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী ইসরায়েলি জাহাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে সিএনএনের এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, ‘বহুবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড কোনো তৃতীয় দেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা অন্য কোনো বৈরী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি অসত্য। আজারবাইজান কখনোই তার ভূখণ্ডকে এমন কাজে ব্যবহার করতে দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।’

এ সময় সিএনএনের সমালোচনা করে দূতাবাস অভিযোগ করে, সংবাদমাধ্যমটি সাংবাদিকতার ‘বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতার নীতিমালা’ লঙ্ঘন করেছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছে যে, ইসরায়েল আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। কারণ আজারবাইজান ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং জ্বালানি অংশীদার। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল যখন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন আজারবাইজান তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড এ ধরনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ জাতিগতভাবে আজারি। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা নিয়ে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন।

আজারবাইজান ও সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সিএনএনের এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরও কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলোতে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করেছিল এবং ইরাকে দুটি গোপন ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল।

সিএনএন জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তারা সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল পূর্ব আফ্রিকার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হয়। এ পদক্ষেপে আরব লীগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

বর্তমানে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বেরবেরায় বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা অভিযান শুরু করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা অগ্রগতি পায়নি। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ওয়াশিংটনের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা চাইলে এখনই সেটি নিয়ে আসতে পারি। আমার মনে হয় না, আমরা চাইলে তারা আমাদের থামাতে পারবে। তবে এর প্রয়োজন নেই। সেটি সমাধিস্থ অবস্থায় রয়েছে।’

ইসরায়েল ধ্বংসের অঙ্গীকার করা ইরানি নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না বলে দাবি করে আসছে। তবে দেশটি এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নেই বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ। ধারণা করা হচ্ছে, গত জুনে ১২ দিনব্যাপী ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানোর পর উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ ভূগর্ভে আটকা পড়ে রয়েছে।

যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এখন স্থবির অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ একজন শীর্ষ উপদেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে গড়াতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, দুই দেশের আলোচনায় বর্তমানে ‘ডেডলক’ তৈরি হয়েছে এবং এই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই।

তিনি বলেন, “আলোচনা স্থবির অবস্থায় আছে। ট্রাম্পকে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। এখন সিদ্ধান্তের বল তার কোর্টে।”

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদই প্রধান বাধা
রেজাই’র মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মুক্তির ওপরই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

ইরান নীতিগতভাবে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করতে হবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, এই অর্থ ছাড় দিলে ওয়াশিংটনের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চাপের একটি হাতিয়ার দুর্বল হয়ে পড়বে।

রেজাই বলেন, এই অর্থ ছাড় ‘আস্থা গঠনের পরীক্ষা’ হিসেবে কাজ করবে। তার ভাষায়, “এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এটি আমাদের নিজেদের অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।”

যুদ্ধ আরও বিস্তারের হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে রেজাই কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ায়, তবে যুদ্ধ শুধু পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রয়োজনে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করে হরমুজ প্রণালী, ভারত মহাসাগর, বাব আল-মানদাব প্রণালী, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

তার দাবি, “আমরা যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেব এবং যেখানে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে আঘাত হানব।”

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, বর্তমানে নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

কৌশলগত জলপথ নিয়ে দাবি
ইরানের প্রভাবশালী এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরও দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমান যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তার মতে, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরান ‘রক্ষণাবেক্ষণ ফি’ আদায় করতে পারে, যা কোনও ধরনের শুল্ক নয়, বরং পরিচালন ব্যয়ের অংশ।

পারমাণবিক চুক্তি ও ট্রাম্প প্রসঙ্গ
রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় আস্থা তৈরি কঠিন।

তিনি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি ‘এখনই অসম্ভব’।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেন, তিনি ও খামেনি নাকি ‘ভালো সম্পর্ক’ বজায় রাখছেন এবং ভবিষ্যতে বৈঠক হলে তা সম্মানের হবে।

যুদ্ধ ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য
রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ইরানের জন্য ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে দেশটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছে বলে তারা মনে করে।


তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলার কথা চিন্তা করে, তবে ইরান ‘তার প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা বিশ্বকে দেখাবে’।

রেজাই ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার ছিলেন এবং পরে ইরানের নীতি নির্ধারণী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলে যোগ দেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসির প্রশাসনেও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্য ইরানের নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণী মহলের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।