৮ জুন ২০২৬

প্রবাসীদের চাহিদায় ফল রপ্তানিতে রেকর্ড, ১১ মাসে আয় ১২.৩ কোটি ডলার

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।
প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
প্রবাসীদের চাহিদায় ফল রপ্তানিতে রেকর্ড, ১১ মাসে আয় ১২.৩ কোটি ডলার

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের ফল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এর পুরো বছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে ফল রপ্তানি থেকে আয় ৮২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ফল রপ্তানি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আয়।

গত তিন অর্থবছর ধরে এ খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ফল মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, "আমাদের অধিকাংশ রপ্তানি প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদা পূরণ করে। আমরা এখনও আন্তর্জাতিক মূলধারার ফলের বাজারে প্রবেশ করতে পারিনি, কারণ বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মান-অনুবর্তিতা, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।"

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে উন্নতি, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ ফল রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, 'বাদাম, তাজা বা শুকনো' শ্রেণির পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে। তাজা ফলের রপ্তানিও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।

উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি আনারস, লিচু, কলাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানি হচ্ছে।

ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে ফল চাষে, বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে, উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলে এক ধরনের ফল বিপ্লব ঘটছে। ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো ফসলের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।"

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত সহায়তা বাড়ানো গেলে ফল রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তার ভাষ্য, "প্যাকিং শেড, ফসলোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা গেলে রপ্তানিকারকেরা আন্তর্জাতিক বাজারের আরও বেশি সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।"

ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখে, কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, "অন্যান্য অনেক খাতের মতো ফল উৎপাদনে আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন খুব বেশি হয় না।"

তিনি আরও জানান, রপ্তানি বাজারে আরও বেশি কৃষক ও উদ্যোক্তাকে যুক্ত করতে কাজ করছে ইপিবি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা, আধুনিক প্যাকেজিং সুবিধা এবং উন্নত ফসলোত্তর ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের ফলে পণ্যের মান ও সংরক্ষণক্ষমতা বেড়েছে।

তারা আরও বলেন, রপ্তানিযোগ্য মানের ফলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তিভিত্তিক চাষের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে।

লজিস্টিকস এখনো বড় চ্যালেঞ্জ

ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) ব্যবস্থা চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে।

তবে রপ্তানিকারকদের মতে, লজিস্টিকস-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। উচ্চ বিমান ভাড়া, মৌসুমে কার্গো পরিবহনের সীমিত সুযোগ, পর্যাপ্ত শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব এবং শুল্ক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা রপ্তানি বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, গত বছর জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার টন আম রপ্তানি হয়েছে। চলতি মৌসুমে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, "কোয়ারেন্টিন সনদ প্রদান ও প্যাকেজিং সুবিধাসহ অধিকাংশ রপ্তানিসংশ্লিষ্ট সেবা ঢাকাকেন্দ্রিক। এসব সুবিধা বিভাগীয় পর্যায়ে থাকলে রপ্তানি আরও সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী হতো।"

তিনি আরও বলেন, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে ফল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, আম রপ্তানির মৌসুম পুরোদমে চলতে থাকায় অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ফল রপ্তানি থেকে আয় আরও বাড়বে।

কসবায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে সৌদি প্রবাসী তরুণ খুন

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
কসবায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে সৌদি প্রবাসী তরুণ খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাঠেরপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার হোসেন (২২) উপজেলার রানিয়ারা বিঞ্চুপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার ও সাব্বির দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সেলুনে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় আনোয়ার প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাব্বিরের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরই জেরে শুক্রবার রাতে কাঠেরপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে আনোয়ারকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেশকাতুজ্জয়ামান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়েছিল।

নিহতের বাবা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে সৌদি আরব প্রবাসী ছিল। দেশে ফিরে একটি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের হাত-পা বাঁধা লাশ বোয়ালখালীর পাহাড়ে উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের হাত-পা বাঁধা লাশ বোয়ালখালীর পাহাড়ে উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর মো. ফারুক (২৫) নামের এক প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাঙ্গুনিয়ার পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী সীমান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ফারুক জঙ্গল সরফভাটা ১নং ওয়ার্ডের মীরের খীল এলাকার মাতব্বর বাড়ির ওসমান ও গুলতাজ দম্পতির সন্তান। তিনি একজন ওমান প্রবাসী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সরফভাটার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফারুক। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার পাহাড়ে একটি লিচু বাগানে লুঙ্গি ও টিশার্ট পরিহিত হাত-পা বাঁধা এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। দুপুরে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, লাশটি নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ফারুক গত ২ জুন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। বোয়ালখালীর গুচ্ছগ্রামে তার এক ভগ্নিপতির বাড়ি রয়েছে। তবে যে পাহাড় থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেটি গুচ্ছগ্রাম থেকে বেশ দূরে। আমরা ঘটনাস্থলে থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

এদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ফারুকের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় হলেও মরদেহটি উদ্ধার হয়েছে বোয়ালখালী সীমান্ত থেকে। তাই রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনার ছায়াতদন্ত ও বোয়ালখালী পুলিশকে সহযোগিতা করলেও, আইনগত মূল ব্যবস্থা ও মামলা বোয়ালখালী থানাতেই দায়ের হবে।

অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

বিএনপি নেতার কাঁটাতারে প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও, অবরুদ্ধ পরিবার

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
বিএনপি নেতার কাঁটাতারে প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও, অবরুদ্ধ পরিবার

রায়পুরে বিএনপি নেতা এবাদ উল্যাহ গাজীর বিরুদ্ধে এক ইতালি প্রবাসীর বাড়ি দখলে নিতে চারপাশে খুঁটি লাগিয়ে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী মামুন মিজির স্ত্রী রোজিনা বেগম রায়পুর থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ৫ জুন সকালে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড চরবংশীতে ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত এবাদ উল্যাহ উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী খাসের হাট এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিস্কৃত সভাপতি।

অভিযোগ সূত্র জানা যায়, ৬ বছর আগে ইতালি প্রবাসী মামুন ঘটনাস্থলে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। সম্প্রতি ওই বাড়ি দখলের জন্য এবাদ উল্যাহ ও শাকিল পাঁয়তারা করে আসছে। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে বাড়ির টিনের বেড়ার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে দেয়। এতে প্রবাসী পরিবার বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের লোকজনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করে বাদী। এরআগেও গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হয়। তখন রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে প্রবাসী পরিবার।

রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরির্দশন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমানবন্দরে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ ড্রোন হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার (৭ জুন) দিবাগত গভীর রাতে বিমানযোগে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ এসে পৌঁছায়। মধ্যরাতে বিমানবন্দরে কফিনবন্দি মরদেহ দুটি গ্রহণ করতে আসেন নিহতদের শোকার্ত স্বজনরা, যার ফলে সেখানে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন এবং সাংবাদিকদের জানান, লেবাননে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত মোট ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ১০ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে সাতজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও আশ্বাস দিয়ে বলেন, লেবাননে বর্তমান যুদ্ধাবস্থার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলেও সেখানে নিহত বাকি প্রবাসীদের মরদেহও অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় এই দুই লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশি নির্মমভাবে নিহত হন। নিহতরা হলেন শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম। তাদের দু’জনেরই গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় লেবাননে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। গত ১১ মে স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে কর্মক্ষেত্রে অবস্থানকালে তারা এই ভয়াবহ হামলার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

প্রায় এক মাসের কাছাকাছি সময়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হলো। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় সরকারের এই দ্রুত উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতেই তা সাতক্ষীরায় তাদের নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

হবিগঞ্জে নিজ ঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
হবিগঞ্জে নিজ ঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে বিউটি আক্তার (২৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বিউটি আক্তার ওই গ্রামের ওমানপ্রবাসী ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর বিউটি আক্তারকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে চুনারুঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের বাবা জয়নাল মিয়া ও বাবাসহ স্বজনেরা সেখানে ছুটে আসেন। তাদের দাবি, বিউটি আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।