৮ জুন ২০২৬

কেন লাখ লাখ টন বালু আমদানি করে মরুভূমির দেশ সৌদি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
কেন লাখ লাখ টন বালু আমদানি করে মরুভূমির দেশ সৌদি

সমুদ্র সৈকত থেকে মরুভূমি- সবখানেই রয়েছে বালি। তার পরেও বালি আমদানি করতে হয় সৌদি আরবের মতো দেশকে। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে এক লাখ ৪০ হাজার ডলারের বালি আমদানি করেছিল সৌদি আরব। নির্মাণ কাজের জন্য লাখ লাখ টন বালি আমদানি করেছিল দেশটি। যদিও সেখানে রয়েছে বিশাল আকারের কয়েকটি মরুভূমি। তারপরেও কেন অন্য দেশ থেকে বালি আনতে হয় সৌদিকে?

আকারের কারণে সৌদির মরুভূমির বালি নির্মাণকাজে ব্যবহার করা যায় না। হাজার হাজার বছর ধরে বায়ুপ্রবাহের দ্বারা ক্ষয় হয়ে, ঘর্ষণের ফলে সেখানকার বালি মসৃণ কণায় পরিণত হয়েছে। নির্মাণের জন্য সিমেন্টের সঙ্গে বালি মাখতে হয়। কিন্তু মসৃণ বালি সিমেন্টের সঙ্গে মাখা যায় না। মেশানোর চেষ্টা করা হল তা আলাদা হয়ে যায়।

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতিভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতি
ভাঙা, অমসৃণ বালির কণা ছাড়া নির্মাণ কাজ করা সম্ভব নয়। সিমেন্টের সঙ্গে একমাত্র সেই ভাঙা, অমসৃণ বালিই মাখা যায়, যা পাওয়া যায় নদী, হ্রদের খাত থেকে। ওই সব এলাকার বালির আকার গোল হয় না। পৃষ্ঠ হয় অমসৃণ। সৌদি মরুভূমির বুকে নতুন শহর নিয়োম তৈরি করছে। সেই কাজে তাদের প্রচুর বালির প্রয়োজন, যা আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে।

কেন মরুভূমির বালি নির্মাণে ব্যবহার হয় না

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বালির দানার আকার বিভিন্ন রকম হয়। সেই আকার নির্ভর করে তার উৎপত্তির ওপরে। নদীবাহিত পলি, বালির ঘর্ষণ হয় হিমবাহের সঙ্গে। স্রোতের আঘাত লাগে। সে কারণে তা অসমৃণ হয়। যখন সিমেন্টের সঙ্গে মাখা হয়, তখন তা পরস্পরের সঙ্গে এঁটে থাকে। মরুভূমিতে যে বালি থাকে, তা উড়িয়ে আনে বাতাস। ঘর্ষণ হয়। হাজার হাজার বছর ধরে চলে সেই প্রক্রিয়া। এর ফলে সেই বালি মসৃণ হয়। প্রতিটি কণার আকারও হয় একই রকম। সেগুলো সিমেন্টের সঙ্গে মাখা হলে জমাট বাঁধে না। আলগা হয়ে যায়। এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু বা ২০ তলা উঁচু বিল্ডিং তৈরি করা ওই বালি দিয়ে সম্ভব নয়।

সে কারণেই বালি আমদানি করে সৌদির মতো মরুভূমি অধ্যুষিত দেশগুলোও। সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশ সবচেয়ে বেশি বালি আমদানি করে অস্ট্রেলিয়া থেকে। অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে প্রচুর ছোটবড় নদী।

ফ্রান্সে সরকারি সফরে ৬ সন্তানকে সঙ্গে নিলেন হেগসেথফ্রান্সে সরকারি সফরে ৬ সন্তানকে সঙ্গে নিলেন হেগসেথ
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টন বালি নদীখাত থেকে উত্তোলিত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে এই পরিমাণ বেড়ে পাঁচগুণ হয়েছে। পানির পরে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার হয়, তা হল বালি। গত ৫০ বছর ধরে প্রতি বছর এর চাহিদা বাড়ছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এত দিন যত বালি ব্যবহার হয়েছে, তা দিয়ে গোটা পৃথিবীর চার পাশে ২৭ মিটার লম্বা এবং ২৭ মিটার পুরু প্রাচীর তৈরি করা যেত।

যেখানে চাহিদা এত, সেখানে বালির জোগান কিন্তু সীমিত। তাই বেআইনিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নদীখাত থেকে বালি উত্তোলন চলছে। তার প্রভাব পড়ছে নদীর বাস্তুতন্ত্রে। বন্যা হচ্ছে। সেতু ভেঙে পড়ছে। ছোট ছোট দ্বীপ উধাও হয়ে যাচ্ছে। তার পরেও নদী খনন করে বন্ধ হচ্ছে না বালি উত্তোলন। কিন্তু প্রশ্ন, নদীখাতের বালির বিকল্প কী হতে পারে? কিছু দেশ পাথর ভাঙা বালি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে। কিছু দেশে আবার পুরনো পরিকাঠামোর ভগ্নাংশ গুঁড়িয়ে নতুন নির্মাণে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে চলছে গবেষণা।

সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
সৌদিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু!

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের তরুণ প্রবাসী শামীম হোসেন। কিন্তু জীবনের নতুন স্বপ্ন গড়ার আগেই নির্মম দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবের দামাম শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানো এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও পুরো এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি একটি বাসার ছাদে শুকাতে দেওয়া কাপড় তুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শামীম। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

তার বাবা আব্দুল ছালাম ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ঋণ ও ধার-দেনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শামীমের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা তার পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা বলেন, “একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শামীমের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবের মাটিতে নিথর পড়ে থাকা শামীমের মরদেহ এখন পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা। দুই সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য। কিন্তু যে মানুষটি একদিন পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত ফিরছেন না— ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।