৮ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় ১৪টি দেশের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে ওইসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সবসময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেকোনও সময় হামলা বা বৈরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে নাগরিকদের আগাম নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অবস্থান জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় দেশগুলোকে দুটি প্রধান ঝুঁকির স্তরে ভাগ করেছে।

লেভেল-৩ সতর্কতার আওতায় রয়েছে বাহরাইন, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব দেশে ভ্রমণের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই সতর্কতায় সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

অন্যদিকে, লেভেল-৪ সতর্কতার তালিকায় রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেন। চলমান সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি এবং অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের কোনওভাবেই ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের ৩৬ দেশ নিয়ে পিউ রিসার্চের জরিপ

ইসরাইল বিরোধী মনোভাবের অন্যতম শীর্ষে বাংলাদেশ, সবচেয়ে কম ভারতে

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ইসরাইল বিরোধী মনোভাবের অন্যতম শীর্ষে বাংলাদেশ, সবচেয়ে কম ভারতে

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের তিন ডজন দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত ‘স্প্রিং ২০২৬ গ্লোবাল অ্যাটিটিউড সার্ভে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রাপ্ত তথ্যের গড় অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ বা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানাল ইরান

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানাল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো বা স্থিতিশীলতার পথে ফেরার কোনো ইচ্ছা দেখাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং তাদের ‘সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড’ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করছে।

শনিবার (৬ জুন) দেশটির মন্ত্রণালয়ের এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানের সিরিক অঞ্চল এবং কিশম দ্বীপে উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, এসব ঘটনার দায় ও এর পরিণতির সম্পূর্ণ দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি ‘ভালো প্রতিবেশী নীতি’ অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যাতে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড বা অবকাঠামো ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিকল্পনা বা পরিচালনা করতে না পারে।

ইরান থেকে জব্দ করা অর্থ আরব দেশগুলোকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ইরান থেকে জব্দ করা অর্থ আরব দেশগুলোকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় যেসব আরব দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামতে এসব দেশকে ইরান থেকে জব্দ করা অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই জব্দ করা অর্থ থেকেই আরব দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

রোববার (৭ জুন) বার্তাসংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের পুরোনো হামলায় আরব দেশগুলোর যেসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামতেও ইরানিদের অর্থ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

একটি সূত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তার দলকে ইরানের হামলায় আরব দেশগুলোর কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন।

লেবাননি গোষ্ঠীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় দখলদার ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। তারা দুজন আলাদা আলাদা ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাতে এ তথ্য জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত আছে।

নিহত সেনাদের মধ্যে একজনের নাম ক্যাপ্টেন শাহার গামলা। ২৩ বছর বয়সী এ সেনা সেনাবাহিনীর ইগোজ ইউনিটের কমান্ডো ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে শুক্রবার আলাদা ঘটনায় সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারি নামে ২১ বছর বয়সী আরেক সেনা গুলিতে নিহত হন। তিনি গিভাতি ব্রিগেডের সাকেদ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তবে তিনি দুর্ঘটনাজনক গোলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

কীভাবে তিনি গুলিবিদ্ধ হলেন সেটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখলদার ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এরমধ্যে দুই সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি করতে হলে প্রথমে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করতে হবে।

তিনি এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশ্বাসের পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন।

মোহসেন রেজায়ি আরও সতর্ক করে বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে খামেনির আরেক উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের শক্তি বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে অস্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।

ভেলায়াতির মতে, এটি ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতির ব্যর্থতা এবং প্রতিরোধ শক্তির একটি বড় সাফল্য।

যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এখন স্থবির অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ একজন শীর্ষ উপদেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে গড়াতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, দুই দেশের আলোচনায় বর্তমানে ‘ডেডলক’ তৈরি হয়েছে এবং এই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই।

তিনি বলেন, “আলোচনা স্থবির অবস্থায় আছে। ট্রাম্পকে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। এখন সিদ্ধান্তের বল তার কোর্টে।”

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদই প্রধান বাধা
রেজাই’র মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মুক্তির ওপরই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

ইরান নীতিগতভাবে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করতে হবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, এই অর্থ ছাড় দিলে ওয়াশিংটনের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চাপের একটি হাতিয়ার দুর্বল হয়ে পড়বে।

রেজাই বলেন, এই অর্থ ছাড় ‘আস্থা গঠনের পরীক্ষা’ হিসেবে কাজ করবে। তার ভাষায়, “এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এটি আমাদের নিজেদের অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।”

যুদ্ধ আরও বিস্তারের হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে রেজাই কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ায়, তবে যুদ্ধ শুধু পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রয়োজনে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করে হরমুজ প্রণালী, ভারত মহাসাগর, বাব আল-মানদাব প্রণালী, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

তার দাবি, “আমরা যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেব এবং যেখানে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে আঘাত হানব।”

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, বর্তমানে নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

কৌশলগত জলপথ নিয়ে দাবি
ইরানের প্রভাবশালী এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরও দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমান যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তার মতে, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরান ‘রক্ষণাবেক্ষণ ফি’ আদায় করতে পারে, যা কোনও ধরনের শুল্ক নয়, বরং পরিচালন ব্যয়ের অংশ।

পারমাণবিক চুক্তি ও ট্রাম্প প্রসঙ্গ
রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় আস্থা তৈরি কঠিন।

তিনি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি ‘এখনই অসম্ভব’।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেন, তিনি ও খামেনি নাকি ‘ভালো সম্পর্ক’ বজায় রাখছেন এবং ভবিষ্যতে বৈঠক হলে তা সম্মানের হবে।

যুদ্ধ ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য
রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ইরানের জন্য ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে দেশটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছে বলে তারা মনে করে।


তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলার কথা চিন্তা করে, তবে ইরান ‘তার প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা বিশ্বকে দেখাবে’।

রেজাই ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার ছিলেন এবং পরে ইরানের নীতি নির্ধারণী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলে যোগ দেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসির প্রশাসনেও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্য ইরানের নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণী মহলের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।