১৫ জুন ২০২৬
ডলারের বিনিময়ে চীনাদের কাছে বিক্রি!

কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৫৪ বাংলাদেশি; দু’দিনে উদ্ধার ৯১ জন

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৫৪ বাংলাদেশি; দু’দিনে উদ্ধার ৯১ জন

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার আরো ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার দুপুর থাই এয়ারওয়েজের একটা ফ্লাইটে এই ৫৪ জন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।

এর আগে গতকাল ফিরেছিলেন আরও ৩৭ জন। এ নিয়ে দু'দিনে ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা করেছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে তাদের সবাইকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্কাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তার ফ্লাইট হয়। তাকে ২ দিন মালয়েশিয়ায় ট্রানজিটে ছিলাম। এরপর ৭ ডিসেম্বর কম্বোডিয়া এয়ারপোর্টে পৌঁছাই। তিনি বিমানবন্দরের বাইরে আসলে রবিন শেখ নামের এক বাংলাদেশি তাকে রিসিভ করে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর দালাল রবিন বলেন আজ তোমার কাজ দেবে বলে নিয়ে য়ায়। এরপর ২৩ ডিসেম্বর তাকে কম্পিউটারের কাজের কথা বলে সেখানে নিয়ে গিয়ে একটি কোম্পানিতে কাজ দেয়। পরের দিন কাজে যোগ দিলে বুঝতে পারি এটি একটি স্ক্যাম প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা আনা হয়। তিনি কাজ করতে না চাইলে সেখানকার চাইনিজ বস বলে তুমি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে চলে যাও। তখন তিনি কত টাকা জানতে চাইলে তখন সে বলে তোমার দালাল রবিন শেখ তোমাকে আমার কাছে ২০৮৫ ডলার বিক্রি করে দিয়েছে। এই টাকা না দিলে কাজ করতে হবে।

আরেজন ভুক্তভোগী জানান, সেদেশে থাকা বাংলাদেশি দালাল সেখানে বিয়ে করে দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়াতে থাকেন। তাকে কম্বোডিয়াতে সুপারশপে চাকরির কথা বলে নিয়ে ৫ মাস কাজও করান কিন্তু তাকে প্রতিমাসে বেতন দিতেন ৪০০ ডলার। থাকা খাওয়ার পর তার কিছুই থাকতো না। তিনি ও তার পরিবার চাপ দিলে একদিন অন্য কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে স্কাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্কাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

এর আগে শুক্রবার ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন দেশে ফেরত আসেন, একইভাবে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরপর দুদিন মিলে ৯১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার।

শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের ভয়াবহ একটা ধরন। কম্পিউটার, কলসেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে (ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ইত্যাদি) প্রচার চলে।

এরপর তাদের সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক জিম্মি করে স্ক্যামের কাজে নিয়োজিত করা হয়। এ কারণেই সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিদেশগামীসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

এক প্রবাসীর টাকা, অন্য প্রবাসীর সাথে ঘর;

পাথরঘাটায় ‘প্রতারক’ গৃহবধূর কীর্তিতে তোলপাড়

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
পাথরঘাটায় ‘প্রতারক’ গৃহবধূর কীর্তিতে তোলপাড়

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের পর জীবিত স্বামীকে মৃত দাবি করে অন্য এক প্রবাসীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক সন্তানের জননী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার ৭নং কাঠালতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাকির খানের ছেলে মো. নাঈমের সঙ্গে ২০১৯ সালে পাথরঘাটা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের অপধা দীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুলের মেয়ে মোসা. সাদিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ২০২৩ সালে তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় সন্তানের বয়স মাত্র দুই মাস হওয়ার পর নাঈম কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কোয়েতে পাড়ি জমান। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী বিদেশ যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সাদিয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৈতাম বাপ্তা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া আক্তার তার প্রথম স্বামী নাঈমকে মৃত বলে পরিচয় দিয়ে নিজেকে বিধবা দাবি করেন এবং ২০২৫ সালের ১৫ জুন কাজী অফিসের মাধ্যমে মো. হাসানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের কাছেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখেন, ফলে প্রথম স্বামী নাঈম বিষয়টি টের পাননি।

নাঈমের পরিবারের দাবি, কোয়েতে অবস্থানকালে তিনি সরল বিশ্বাসে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পাঠান এবং ১১ ভরি স্বর্ণালংকারও প্রদান করেন। একই সময়ে দ্বিতীয় স্বামী হাসানের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পরে হাসান কোয়েত গেলে সাদিয়া আবারও অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাঈমের বাবা মো. জাকির খান বলেন, “ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। সে তার উপার্জনের প্রায় সব টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে। আজ সেই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই।”

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শুরু থেকেই সাদিয়ার আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নাঈম স্ত্রীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে পরিবারের কথা গুরুত্ব দেননি। এমনকি স্ত্রীর অনুরোধে তাকে গ্রামের বাড়ি থেকে পাথরঘাটা শহরে আলাদা বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে অভিযোগ অনুযায়ী তার অবৈধ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হয়।

এ বিষয়ে কাঠালতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ নানা টালবাহানা করছে।

তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে নয়, একজন প্রবাসীর জীবন-সংগ্রাম ও বিশ্বাসের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রবাসী পরিবার এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাদিয়ার মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যারা আপনার কাছে অভিযোগ দিয়েছে এব্যাপারে তাদের সাথে কথা বলেন আমি আপনার সাথে কোন কথা বলতে রাজি না।

অভিযুক্ত সাদিয়ার সাথে কথা বলতে চাইলে সাদিয়ার মা সাদিয়াকে কথা বলতে নিষেধ করেন।

যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯), ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২৪) এবং মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)। অন্য দুই আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও ইমন (২৪) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে বের হন প্রবাসীর স্ত্রী। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি মারুফ হোসেন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিন আসামিকে আটকের পর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডলারের বিনিময়ে চীনাদের কাছে বিক্রি!

কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৫৪ বাংলাদেশি; দু’দিনে উদ্ধার ৯১ জন

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৫৪ বাংলাদেশি; দু’দিনে উদ্ধার ৯১ জন

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার আরো ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার দুপুর থাই এয়ারওয়েজের একটা ফ্লাইটে এই ৫৪ জন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।

এর আগে গতকাল ফিরেছিলেন আরও ৩৭ জন। এ নিয়ে দু'দিনে ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা করেছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে তাদের সবাইকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্কাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তার ফ্লাইট হয়। তাকে ২ দিন মালয়েশিয়ায় ট্রানজিটে ছিলাম। এরপর ৭ ডিসেম্বর কম্বোডিয়া এয়ারপোর্টে পৌঁছাই। তিনি বিমানবন্দরের বাইরে আসলে রবিন শেখ নামের এক বাংলাদেশি তাকে রিসিভ করে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর দালাল রবিন বলেন আজ তোমার কাজ দেবে বলে নিয়ে য়ায়। এরপর ২৩ ডিসেম্বর তাকে কম্পিউটারের কাজের কথা বলে সেখানে নিয়ে গিয়ে একটি কোম্পানিতে কাজ দেয়। পরের দিন কাজে যোগ দিলে বুঝতে পারি এটি একটি স্ক্যাম প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা আনা হয়। তিনি কাজ করতে না চাইলে সেখানকার চাইনিজ বস বলে তুমি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে চলে যাও। তখন তিনি কত টাকা জানতে চাইলে তখন সে বলে তোমার দালাল রবিন শেখ তোমাকে আমার কাছে ২০৮৫ ডলার বিক্রি করে দিয়েছে। এই টাকা না দিলে কাজ করতে হবে।

আরেজন ভুক্তভোগী জানান, সেদেশে থাকা বাংলাদেশি দালাল সেখানে বিয়ে করে দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়াতে থাকেন। তাকে কম্বোডিয়াতে সুপারশপে চাকরির কথা বলে নিয়ে ৫ মাস কাজও করান কিন্তু তাকে প্রতিমাসে বেতন দিতেন ৪০০ ডলার। থাকা খাওয়ার পর তার কিছুই থাকতো না। তিনি ও তার পরিবার চাপ দিলে একদিন অন্য কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে স্কাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্কাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

এর আগে শুক্রবার ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন দেশে ফেরত আসেন, একইভাবে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরপর দুদিন মিলে ৯১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার।

শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের ভয়াবহ একটা ধরন। কম্পিউটার, কলসেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে (ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ইত্যাদি) প্রচার চলে।

এরপর তাদের সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক জিম্মি করে স্ক্যামের কাজে নিয়োজিত করা হয়। এ কারণেই সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিদেশগামীসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের হোতা বাংলাদেশিরা; ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ গ্রেপ্তার ৫!

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের হোতা বাংলাদেশিরা; ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ গ্রেপ্তার ৫!

কুয়েতে সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্প জালিয়াতি ও অবৈধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের নজরদারি, গোপন অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন প্রবাসী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জাল সরকারি স্ট্যাম্প বিক্রি করতেন। তারা মূলত ৫ ও ১০ কুয়েতি দিনারের সরকারি স্ট্যাম্প বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

কুয়েতের রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশনস ডিপার্টমেন্ট একটি অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটি বেশ সংগঠিতভাবে কাজ করছিল। তারা সরকারি স্ট্যাম্পের আসল কাগজ সংগ্রহ করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জাল স্ট্যাম্প তৈরি করত। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং স্ট্যাম্প তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের স্ট্যাম্প পেপারের রোল জব্দ করে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা একটি হাসপাতাল থেকে সরকারি স্ট্যাম্পের আসল কাগজের রোল চুরি করে সেগুলো ব্যবহার করে জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করতেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হতো।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নথিপত্রের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


আটক পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জব্দ আলামতসহ তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারি অর্থ, নথিপত্র ও রাজস্ব সংক্রান্ত কোনো ধরনের জালিয়াতি বা কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

৭০০ কোটি টাকা মেরে কাতার থেকে উধাও চট্টগ্রামের ইকবাল; তোলপাড় দোহা থেকে ঢাকা

দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির * বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
৭০০ কোটি টাকা মেরে কাতার থেকে উধাও চট্টগ্রামের ইকবাল; তোলপাড় দোহা থেকে ঢাকা

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কোম্পানির অন্তত ৭০০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে কাতার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন এক ব্যবসায়ী। ইকবাল তামজু মিয়া ওরফে নাজিম মোল্লা নামের ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে কাতার ত্যাগ করেন। এরপর থেকে ওই দেশের ব্যবসায়ী ও পাওনাদাররা ইকবালের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।

তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানকার সবকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঝুলছে তালা। চট্টগ্রাম নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় তার বাসভবনে গিয়েও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ করতে না পেরে পাওনাদাররা ধরনা দিচ্ছেন কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কাতারেও ফৌজদারি মামলা করেছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।

এদিকে ইকবালের এমন প্রতারণায় কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। সেখানে দেশের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভিসা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যায়, ইকবাল কাতারে ৩০-৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। সানোয়ারা ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি বাংলাদেশ থেকে নানা ধরনের সবজি পণ্য নিয়ে সুপারশপে সরবরাহ করতেন। বাংলাদেশি, পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীর লেনদেনে তার কাছে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা আটকে যায়। এ অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর তিনি গোপনে কাতার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন এবং পাওনাদারদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, স্যুভেনিয়র ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ইকবালের কাছে পাওনা রয়েছে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪ টাকা)। আবু জাহের ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রুটস ট্রেডিং নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের পাওনা ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। বেস্ট কোয়ালিটি ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল ট্রেডিং পাবে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৪ টাকা। ১০ মার্চ স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর পক্ষে সাঈদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে ২ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৮০০ রিয়াল পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কাতারের আদালতে ইকবালের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইকবালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদরদপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা এখনো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) আসেনি। ইকবাল কোথায় আছেন, সেই খোঁজও নেই পুলিশের কাছে।

চট্টগ্রামের স্নেহা এন্টারপ্রাইজ ও আলফালাহ ট্রেডিং নামে দুটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানি কোম্পানি স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর মাধ্যমে ইকবালের প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৪৬৮ টাকার পণ্য (সবজি) পাঠায়। এ টাকাও আটকে গেছে।

স্নেহা এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহ আলম বলেন, আমি আড়াই কোটি টাকার পণ্য পাঠিয়েছি ইকবালের প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এক কানাকড়িও না দিয়ে ওই ব্যবসায়ী কাতার থেকে পালিয়ে এসেছেন। ইকবালের এক ভাই বলেছেন, তিনি বাসায় থাকেন না। কোথায় আছেন, তাও বলতে পারবেন না।