১৫ জুন ২০২৬

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করেছে দুবাই পুলিশ।
প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার

রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়। ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেফতার করে।

২০২৪ সালের গত ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করেছে দুবাই পুলিশ।
প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার

রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়। ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেফতার করে।

২০২৪ সালের গত ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

তহবিল ‘ফাঁকা’, ইসলামী ব্যাংকের চেক অন্যরাও নিচ্ছে না

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
তহবিল ‘ফাঁকা’, ইসলামী ব্যাংকের চেক অন্যরাও নিচ্ছে না

ইসলামী ব্যাংকের চেক নেওয়া বন্ধ রেখেছে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে– ইসলামী ব্যাংকের সব ধরনের চেকের বিপরীতে যেন কোনো টাকা ছাড় না দেওয়া হয়।

মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত ইসলামী ব্যাংকের তহবিল প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

চেয়ারম্যান নিয়োগের পর জটিলতা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন, সংসদ অধিবেশনে বিতর্ক, টাকা তুলে নেওয়া– এসব ঘটনার মধ্যে গত বুধবার (১০ জুন) ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরদিনই ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়– ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) ইসলামী ব্যাংকের সব চেক স্টপ পেমেন্ট হিসেবে গণ্য করে গ্রাহকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে অর্থ জমা না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে যে পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে, তা দিয়ে খুব বেশি চেকের দায় শোধ হবে না। এজন্য গত বৃহস্পতিবার অন্য ব্যাংকে জমা হওয়া কোনো চেক নিষ্পত্তি হয়নি। এ ছাড়া চলতি হিসাবে টাকা জমা না হওয়া পর্যন্ত চেক নিষ্পত্তি বন্ধ রাখবে ব্যাংকগুলো।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা-উপশাখায় গিয়েও চাহিদা মতো টাকা উত্তোলন করতে পারেননি গ্রাহকেরা। পাশাপাশি এটিএম বুথগুলো টাকা শূন্য হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইনকে ফোন করা হলে, রিসিভ হয়নি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফুর হোসেন খান দেশের বাইরে থাকায় বক্তব্য পায়নি স্ট্রিম। সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকিও ফোনে সাড়া দেননি।

যদিও ব্যাংকের সিস্টেম্যাটিক বা বড় ব্যাংক বিবেচনায় গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু টুলস আছে, যা আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করব। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের এই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের জন্য ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট (জরুরি তারল্য সহায়তা), যা দেওয়ার প্রয়োজন, তা আমরা দেব।’

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমদু চৌধুরীসহ ১০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার পাশাপাশি গভর্নরও অংশ নেন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবস গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি ঘিরে আন্দোলন, বিতর্ক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শেয়ারবাজার থেকে নামে-বেনামে শেয়ার কিনে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের দখল নেয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। এতে সহায়তা করে তৎকালীন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংক পরিচালনা করছেন। ব্যাংকটির ৫০ শতাংশ ঋণ বা ১ লাখ কোটি টাকা এখন খেলাপি, যার বড় অংশ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।

কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের চেয়ে বড় বাংলাদেশের বাজেট

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের চেয়ে বড় বাংলাদেশের বাজেট
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। ছবি: পিএমও

বিশ্ব অর্থনীতিতে যেকোনো দেশের সক্ষমতা পরিমাপের ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি দেশের সরকার বছরে কত অর্থ ব্যয় করবে, কীভাবে রাজস্ব আদায় করবে, কী পরিমাণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং জনগণকে কত ধরনের সেবা দেবে-তার একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায় বাজেট থেকে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী এই বাজেটের আন্তর্জাতিক মূল্যমান দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার বা ৭৬ দশমিক ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর বাংলাদেশের বাজেটের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।


বাজেটের আকার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতারের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বাংলাদেশের বাজেট বড়। কাতার বিশ্বের সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশগুলোর একটি হলেও দেশটির জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কাতারের সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ বাংলাদেশের চেয়ে কম। একইভাবে তেলসমৃদ্ধ কুয়েতের বাজেটও বাংলাদেশের তুলনায় ছোট। ওমানের বাজেটের চেয়েও বাংলাদেশের বাজেট উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বড়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী
গত বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৬ হাজার বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের প্রায় সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বা সাড়ে চার হাজার বিলিয়ন ডলার। চতুর্থ অর্থনীতির দেশ ভারতের প্রায় ৬২০ বিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের চিরবৈরি পাকিস্তানের বাজেট প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।

সেই তুলনায় গত বছর বাংলাদেশের ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বাজেট বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আনুমানিক ৫০তম থেকে ৫৫তম স্থানের মধ্যে পড়ে। তবে বাংলাদেশের বাজেট এখন মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের অনেক ধনী দেশের চেয়ে আকারে বড়।

ইউরোপীয় দেশ হাঙ্গেরির বাজেট বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা ছোট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির বাজেট ছিল প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার। স্লোভাকিয়ার বাজেটের চেয়ে বাংলাদেশের বাজেট প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বড়। বুলগেরিয়ার চেয়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার, ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। এছাড়া লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্টোনিয়ার মোট বাজেটের চেয়ে বাংলাদেশের বাজেট খানিকটা বড়।

গত বছর দেখা গেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ধনী কাতারের বাজেটের চেয়ে বাংলাদেশের বাজেট ৬ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বাহরাইনের বাজেটের চেয়ে বাংলাদেশের বাজেট প্রায় ছয় গুণ বড়। ওমানের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বড় বাংলাদেশের বাজেট। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কুয়েতের বাজেটের চেয়ে প্রায় চার বিলিয়ন ডলার বড় ছিল কৃষি-তৈরি পোশাক শিল্প-প্রবাসী আয়নির্ভর বাংলাদেশের বাজেট। তবে এই দেশগুলোতে মাথাপিছু আয় বাংলাদেশির চেয়ে অনেক বেশি হলেও, তাদের জনসংখ্যা কম হওয়ায় জাতীয় বাজেটের আকার বাংলাদেশের চেয়ে ছোট।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মধ্যম আয়ের পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়, প্রবাসী আয়ের স্থিতিশীল প্রবাহ এবং শিল্প খাতের সম্প্রসারণ বাজেটকে বড় করার মূল চালিকাশক্তি। জনসংখ্যাভিত্তিক বৃহৎ অর্থনৈতিক কাঠামো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসারও বাজেট আকার বাড়াচ্ছে।

একসময় যেসব ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশকে আর্থিক সক্ষমতার প্রতীক মনে করা হতো, বাংলাদেশের বাজেট আজ অনেক ক্ষেত্রে তাদের অতিক্রম করেছে। এ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রবৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নবউত্থানের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট উন্নয়নশীল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মাঝারি মাপের বাজেট হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক ঋণ ও ঘাটতি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই বাজেট একটি স্থিতিশীল, রূপান্তরমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রশ্ন হতে পারে, মাথাপিছু আয় ও জীবনমানের বিচারে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ কীভাবে এসব ধনী দেশের চেয়ে বড় বাজেট প্রণয়ন করছে?

এর প্রধান কারণ জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকার। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি। বিপরীতে কাতার, কুয়েত ও ওমানের সম্মিলিত জনসংখ্যাও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। অধিক জনসংখ্যার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবায় বিপুল ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। ফলে জাতীয় বাজেটও বড় হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাজেটকে ডলারে রূপান্তর করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, উন্নয়নশীল এই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি এখন কতটা বিস্তৃত হয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান কোথায় পৌঁছেছে।

প্রথমবার বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
প্রথমবার বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৩ হাজার ২০ ডলার। এর আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।

এতে আরও জানানো হয়, একই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক গতি ফিরে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় বেশি।

বর্তমান বাজারমূল্যে দেশের অর্থনীতির আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। আগের অর্থবছরে অর্থনীতির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবের এই তথ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হলেও এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মাধ্যমে।

ইতিহাসে প্রথমবার:

অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি মূল্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের সমান।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান ছিল।

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের সাময়িক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। ফলে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৭৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ২.৪২ শতাংশের তুলনায় ০.৩৬ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৮৬ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩.৭১ শতাংশের তুলনায় ০.৮৫ শতাংশ কম।

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪.৩৫ শতাংশ থেকে ০.২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮.৫৪ শতাংশ। একইভাবে দেশজ সঞ্চয় কমে ২১.৩৮ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয় কমে ২৬.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা বা ৩,০২০ মার্কিন ডলারে। আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২,৭৬৯ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।