৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের কিছু স্থানে ভারী বর্ষণ হতে পারে

প্রকাশ: শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬
বাংলাদেশের কিছু স্থানে ভারী বর্ষণ হতে পারে

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

শুক্রবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু'একটি জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিম বঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে।

আজ সকাল থেকে ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।

সকাল ৬ টা'য় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের মাইজদীকোর্টে এবং খুলনা বিভাগের কয়রায় ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

এছাড়া আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলে ও সিলেটে ২১ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

গত ২৪ ঘন্টায় ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চলতি বছর শনাক্ত ৩৭ জনের অর্ধেকের বেশি পুরুষ সমকামী ও পুরুষ যৌনকর্মী

কুমিল্লায় এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
কুমিল্লায় এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু

কুমিল্লায় এইচআইভি/এইডস পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জেলায় এইডসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই পুরুষ সমকামী ও পুরুষ যৌনকর্মী। এইডস সংক্রমণ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে বর্তমানে ১৫টি জেলার মোট ৫৪৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শুধু কুমিল্লা জেলার বাসিন্দাই আছেন ৩৮৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমিল্লায় ইতোপূর্বে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এই সংক্রমণ ও ঝুঁকির হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ফলে এইডসের এই নীরব বিস্তার আগামী দিনে মহামারির রূপ নিতে পারে।
অন্যদিকে কুমিল্লার আলেম সমাজ ও ইসলামি চিন্তাবিদগণ মনে করেন, ধর্মীয় অনুশাসন এবং নৈতিক মূল্যবোধের অভাবই এইডসের বিস্তার ঘটছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত মে মাসেই ৩ জন এইডস রোগী মারা গেছেন। মৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, নরসিংদী, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ ও বান্দরবান জেলার ৫৪৬ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, আগে রক্ত সঞ্চালন বা প্রবাসীদের মাধ্যমে ছড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকলেও, বর্তমানে প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। চলতি বছরে ৩৭ জন আক্রান্তদের মধ্যেও ১৮ জন পুরুষ সমকামী এবং ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী রয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি।


কুমেকের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, ‘আগে বেশির ভাগ সংক্রমণ রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে ছড়াত। তবে এখন যেসব নতুন কেস পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই যৌনবাহিত। এটি সবচেয়ে শঙ্কার বিষয়।’


এদিকে, সরকারিভাবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) ওষুধ দেওয়া হলেও এই সেন্টারের স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম অবহেলার শিকার। গত প্রায় দুই বছর ধরে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কাউন্সেলর ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালে শুধু তারাই আসছেন, যারা একদম শেষ পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লায় আগে একাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও বিদেশি দাতাসংস্থার অর্থায়নে এইচআইভি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কাজ করতো। তারা মূলত উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী যেমন সমকামী (এমএসএম), হিজড়া, নারী ও পুরুষ যৌনকর্মী এবং সুই-সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের সচেতন করা, বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট বিতরণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতো। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে এনজিওদের এই ‘আউটরিচ’ বা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলো পুনরায় অনিরাপদ যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লার আলেম সমাজ ও ইসলামি চিন্তাবিদগণ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ধর্মীয় অনুশাসন অমান্য করে অবাধ যৌনাচার ও অনৈতিক জীবনযাপনের কারণেই এই মরণব্যাধি সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শিরায় মাদক গ্রহণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাও এইচআইভি সংক্রমণের কারণ। ইসলামে সব ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম বা নিষিদ্ধ করায় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সোহেল ফৌজদারি কারযবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। আমি নিয়মিত নেশা করি। এ বাড়ির তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনটি পরিবার থাকে। সকালে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন বাসা থেকে বের হয়।’

সোহেল আরও বলে, ‘পাশের বাসার ৮ বছরের ওই শিশু তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। শিশুটি এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। তার লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম। এরপর তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।’

মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। ওইদিনই শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারের জন্য নথি বদলি করা হয়। তবে সেদিন থেকে ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হওয়ায় গত ১ জুন মামলাটির চার্জগঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের পর ১ জুন মামলার চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

চার্জগঠনের দিন সোহেল ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দোষারোপ করেন। তবে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে অন্য কারোর সংশ্লিষ্টতা মেলেনি বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ ও তদন্ত কর্মকর্তা। পরদিন ২ জুন মামলাটির ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয় । এরপর ৩ জুন মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থণে আসামি সোহেল বলেন, ‘আমার একটি ছাওয়াল আছে স্যার। আমাকে মাফ করেন।’ এদিকে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে সমঝোতা চুক্তি

বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতা দেবে চীন

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতা দেবে চীন

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা শুধু সড়ক, সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না চীন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, সবুজ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী দেশটি। তিনটি বড় বিষয়ের অধীনে মোট ২৩টি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। দেশটির জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) একটি সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসে চীন সফর সামনে রেখে এসব প্রস্তাব দিয়েছে এনডিআরসি।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) এগিয়ে নেওয়ার সহযোগিতা পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি খসড়া নথি বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস পাঠায় চীন। সেই নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই নথিটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত করা যায়।

খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বিআরআই কাঠামোর আওতায় যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই নতুন এই খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। খসড়া নথিতে শান্তি, উন্মুক্ততা, পারস্পরিক লাভ এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে বিআরআই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, স্বচ্ছ এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ২৩টি সহযোগিতা খাতের মধ্যে রয়েছে- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষা। এ ছাড়াও পরিকল্পনায় খাতভিত্তিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম, নীতিগত সহায়তা ব্যবস্থা এবং সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা উদ্যোগে’ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া নথিতে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও পানি সম্পদ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলাদা আলোচনা বা ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়াও চীন বাংলাদেশকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো, চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার এবং চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশন। বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কম-কার্বন উন্নয়ন নিয়ে নতুন সমন্বয় ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিয়মিত চীনা ভাষা শিক্ষা ফোরাম আয়োজন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধি এবং থিংক-ট্যাংক পর্যায়ে সংলাপ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য এবং ওষুধশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে চীন, যা মহামারির পর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্বের প্রতিফলন।

খসড়ায় কৃষি, জ্বালানি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। কূটনীতিকরা বলছেন, আগে বিআরআই মূলত সড়ক, সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেন্দ্রিক ছিল। এখন ডিজিটাল সংযোগ, তথ্যভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং চীনা বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরির বিষয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরির বিষয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় প্রযুক্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের ৪ নম্বর সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


এর আগে একই দিনে ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে কর্মপর্যায়ভিত্তিক জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি’ সংক্রান্ত একটি বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরির বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে দুপুরে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।

দেশে ফিরেছেন ৩২ হাজার ৮৩২ হাজি, সৌদিতে মারা গেছেন ৪৮ জন

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
দেশে ফিরেছেন ৩২ হাজার ৮৩২ হাজি, সৌদিতে মারা গেছেন ৪৮ জন

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে ৭৮টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজি বাংলাদেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত এসব হাজি দেশে ফেরেন। এছাড়া হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ও হাজি সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৯ হাজার ৫০৪ জন রয়েছেন।

এসব হাজিকে দেশে ফেরাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩১টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। এদের মধ্যে মক্কায় ৩৫, মদিনায় ১২ ও জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৩৬০ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৩ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।