১৯ জুন ২০২৬

৭০০ কোটি টাকা মেরে কাতার থেকে উধাও চট্টগ্রামের ইকবাল; তোলপাড় দোহা থেকে ঢাকা

দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির * বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
৭০০ কোটি টাকা মেরে কাতার থেকে উধাও চট্টগ্রামের ইকবাল; তোলপাড় দোহা থেকে ঢাকা

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কোম্পানির অন্তত ৭০০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে কাতার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন এক ব্যবসায়ী। ইকবাল তামজু মিয়া ওরফে নাজিম মোল্লা নামের ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে কাতার ত্যাগ করেন। এরপর থেকে ওই দেশের ব্যবসায়ী ও পাওনাদাররা ইকবালের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।

তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানকার সবকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঝুলছে তালা। চট্টগ্রাম নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় তার বাসভবনে গিয়েও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ করতে না পেরে পাওনাদাররা ধরনা দিচ্ছেন কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কাতারেও ফৌজদারি মামলা করেছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।

এদিকে ইকবালের এমন প্রতারণায় কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। সেখানে দেশের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভিসা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যায়, ইকবাল কাতারে ৩০-৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। সানোয়ারা ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি বাংলাদেশ থেকে নানা ধরনের সবজি পণ্য নিয়ে সুপারশপে সরবরাহ করতেন। বাংলাদেশি, পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীর লেনদেনে তার কাছে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা আটকে যায়। এ অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর তিনি গোপনে কাতার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন এবং পাওনাদারদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, স্যুভেনিয়র ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ইকবালের কাছে পাওনা রয়েছে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪ টাকা)। আবু জাহের ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রুটস ট্রেডিং নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের পাওনা ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। বেস্ট কোয়ালিটি ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল ট্রেডিং পাবে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৪ টাকা। ১০ মার্চ স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর পক্ষে সাঈদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে ২ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৮০০ রিয়াল পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কাতারের আদালতে ইকবালের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইকবালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদরদপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা এখনো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) আসেনি। ইকবাল কোথায় আছেন, সেই খোঁজও নেই পুলিশের কাছে।

চট্টগ্রামের স্নেহা এন্টারপ্রাইজ ও আলফালাহ ট্রেডিং নামে দুটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানি কোম্পানি স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর মাধ্যমে ইকবালের প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৪৬৮ টাকার পণ্য (সবজি) পাঠায়। এ টাকাও আটকে গেছে।

স্নেহা এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহ আলম বলেন, আমি আড়াই কোটি টাকার পণ্য পাঠিয়েছি ইকবালের প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এক কানাকড়িও না দিয়ে ওই ব্যবসায়ী কাতার থেকে পালিয়ে এসেছেন। ইকবালের এক ভাই বলেছেন, তিনি বাসায় থাকেন না। কোথায় আছেন, তাও বলতে পারবেন না।

আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে বাংলাদেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে বাংলাদেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, এ চুক্তি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে সরকার ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ জোরদার করেছে। রফতানি বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, বাজার সম্প্রসারণ ও শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এছাড়া জিসিসি ও মার্কোসুর-এর মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।

বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও কৃষিপণ্য রফতানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও মরক্কো, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, আলজেরিয়া ও ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুনে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুনে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার

চলতি মাসে সরকার আরও চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে, যাতে মোট গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাসবাহী পাঁচটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জুন মাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মধ্যে গতকাল ১৫ জুন পর্যন্ত পাঁচ কার্গো দেশে পৌঁছেছে।’

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের জন্য ক্রয়কৃত নয় কার্গো এলএনজির মধ্যে পাঁচটি স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছে, বাকি চার কার্গো স্পট মার্কেট থেকে আনা হবে।

এর আগে, মে মাসে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করে, যাতে গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেট সব উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে।’

গড়ে প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে বলে তিনি জানান।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

দেশের বাজারে আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
দেশের বাজারে আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ দাম। আজ বুধবার (১৭ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামে।

সবশেষ গত ১৫ জুন সকালে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ও ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড ) মূল্য বেড়েছে। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এর আগে, সবশেষ গত ১৩ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

সচল হচ্ছে দেশের ৮ আঞ্চলিক বিমানবন্দর

♦ আন্তর্জাতিক মানের হবে বগুড়া বিমানবন্দর ♦ বাণিজ্য বাড়ানোয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
সচল হচ্ছে দেশের ৮ আঞ্চলিক বিমানবন্দর

বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা দেশের আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনগণের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা হচ্ছে। স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের সাত থেকে আটটি বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় বগুড়াকে কেন্দ্র করে একটি এভিয়েশন হাব বা আন্তর্জাতিক মানের কার্গো পরিবহনের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে, যাতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারে।

এ ছাড়া আধুনিক টার্মিনাল ভবন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটিতে কয়েক শ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও নতুন প্রাণ পেতে যাচ্ছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বেবিচকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের একটি দল বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেছে।

বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর (মৌলভীবাজার), খানজাহান আলী (বাগেরহাট) এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বিমানবন্দরের নিজস্ব আয়-ব্যয় দিয়ে এর লাভক্ষতি বিচার করা ঠিক হবে না। একটি বিমানবন্দরকে ঘিরে হোটেল, পরিবহন, ব্যবসা ও পর্যটনসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।

যেমন শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প চাঙা হবে। আবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ঈশ্বরদীতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত বাড়ছে, ফলে ওই বিমানবন্দরটিরও বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে।

বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা গেলে দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যার সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ।

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

দেশের আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকার পাশের ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলা নতুন করে রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজ রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কী পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কী কার্যক্রম চলমান এবং আগামীতে কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে একটা মিটিং ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটা জেনেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন এবং তার মতামতও যুক্ত করেছেন। সেই সামগ্রিক যোগাযোগ কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে পর্যালোচনাপূর্বক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি। যেমন, আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সেটা তো আছেই, অ্যাট দ্য সেম টাইম আমাদের ধীরাশ্রমে একটা আইসিডি কনটেইনারের প্রকল্প এরই মধ্যে পাস হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা সেটা কিছু মিটারগেজ কিছু হচ্ছে আপনার ব্রডগেজ।’

রেল যোগাযোগের আওতায় আসা জেলাগুলো হলো, শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর।