১৫ জুন ২০২৬
আমেরিকার হামলার পাল্টা জবাব:

কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটিতে ড্র্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। খবর আলজাজিরা।

পাশাপাশি এ হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, আইআরজিসি হরমুজে থাকা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হরমুজে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এ ঘোষণার পরই তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে জোরালে হামলার হুমকি দেন। এর পর বন্দর আব্বাসসহ ইরানের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

অবশেষে চূড়ান্ত হলো ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান ‘শান্তি চুক্তি

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
অবশেষে চূড়ান্ত হলো ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান ‘শান্তি চুক্তি

সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।’

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় উপস্থাপক বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরানি কিছু সংবাদমাধ্যমে এই চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ইরান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই তীব্র নিন্দা জানান। সেই উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল দুই দেশ।

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে চালানো ওই হামলা নিয়ে ইসরায়েলের দাবি ছিল, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে। তবে গালিবাফ বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না।

এ ছাড়া বৈরুতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। দেশটির সামরিক কমান্ড জানায়, তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে’ এবং তারা ‘শত্রুর হৃৎপিণ্ড’ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ (রোববার) সকালে বৈরুতে এ হামলা হওয়া মোটেও উচিত হয়নি। বিশেষ করে এমন এক দিনে এ ঘটনা ঘটল, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে কাছাকাছি রয়েছি।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা পরিকল্পিত এই চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কমানোর মার্কিন দাবির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর লেবাননে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করে।

এখনো চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে রয়টার্সকে বেশ কিছু সূত্র জানায়, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। ইরানের বন্দরগুলোয় মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে ইরান।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি

ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে দেশটির ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে প্রস্তুত রয়েছে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি
বাম দিক থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: এএফপি

ইউরোপের এই প্রধান চার দেশের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে এইট এএম মিডিয়া এক প্রতিবেদনে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেছে।

রোববার (১৪ জুন) রাতে প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের শীর্ষ নেতারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে অবশ্যই ‘কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।’ এই লক্ষ্য অর্জনে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

পারমাণবিক বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিটি কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই অনতিবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য এই চার দেশ জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, সংশয় প্রকাশ তেহরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, সংশয় প্রকাশ তেহরানের

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রোববারই (১৪ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটি সই হওয়ার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে কিছুটা সতর্কতা ও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, আগামীকালই (রোববার) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর এটি সই হওয়ার সাথে সাথেই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত হলে আমরা উপযুক্ত সময়ে সেখানে যাব এবং সমস্ত নিউক্লিয়ার ডাস্ট (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) নিয়ে এসে তা ধ্বংস করব। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গড়িমসি করা হলে ওয়াশিংটনের হাতে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে পারে এবং পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক সাইনিং বা ডিজিটাল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন তাড়াহুড়োর বিপরীতে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ঠিক কোন তারিখে স্বাক্ষরিত হবে, তা জানতে আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি যে আগামীকালই (রোববার) হচ্ছে না, তা নিশ্চিত। যদিও আগামী দিনগুলোতে চুক্তিটি সই হওয়ার সম্ভাবনা তিনি একেবারে উড়িয়ে দেননি।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বড় চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইয়ের অবসান ঘটবে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চুক্তি সইয়ের পরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। গত এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি সপ্তাহেও উভয়পক্ষ একে অপরের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন স্বঘোষিত মুসলিম রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন স্বঘোষিত মুসলিম রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহামেদ আব্দুল্লাহি (যিনি চিরো নামে সমধিক পরিচিত) প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।

স্বঘোষিত এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর, এটিই হবে সোমালিল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম তেল আবিব সফর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সোমালিল্যান্ডের কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক তেল আবিবে প্রদর্শিত সোমালিল্যান্ড ও ইসরায়েলের পতাকার একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী মঙ্গলবারই (১৬ জুন) সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এডেন উপসাগরের তীরে এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এবং এই অঞ্চলে তেহরানের মিত্রদের মোকাবিলা করতেই মূলত সোমালিল্যান্ডকে তড়িঘড়ি করে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। এর মাধ্যমে ওই কৌশলগত অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় তেল আবিব।

এডেন উপসাগরের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত ইয়েমেনের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হুথিরা। হুথিদের এই আগ্রাসী ভূমিকার পর লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমালিল্যান্ডের সাথে কৌশলগত জোট গঠন ইসরায়েলের জন্য এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সম্ভাব্য এই উচ্চ-পর্যায়ের সফর নিয়ে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা মন্তব্য করা হয়নি।

ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করার একটি খসড়া চুক্তিতে ‘অনুমোদন’ দিয়েছে তেহরান। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিলও করেছেন তিনি।

তবে, ইরানের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয়নি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি তেহরান বিবেচনা করতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচিত এই শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য হলো- প্রণালিটি খুলে দেয়া এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যেকোনো চুক্তির জন্য সম্ভবত আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা দেশটির নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আনা হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আজ সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বোমা হামলা বাতিল করেছি।’

তিনি আরও দাবি করেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশর।

ইরান যা বলেছে
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাথে যুক্ত ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স, ইরানের আলোচনা দলের ঘনিষ্ঠ এক অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কোনো খসড়া অনুমোদিত হয়নি।

দেশটির আরেক সংবাদ সংস্থা তাসনিম ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতেও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যতক্ষণ না ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ঘোষণা দিচ্ছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের যেকোনো খবরকে তার পূর্ববর্তী বার্তা হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’

তবে, পরে ইরানের গণমাধ্যম জানায় যে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবিত খসড়া গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে চুক্তিটি পুনরায় বিবেচনা ও পর্যালোচনা করতে পারে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেন, ‘খসড়াটির বেশিরভাগ অংশই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমেরিকানরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতেই থাকল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমায় কোনো আপস করে না। চুক্তির বিষয়ে ইরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।